ভুক্তভোগীই এখন অভিযুক্ত

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:১৩ এএম

‘ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার’ হিসেবে তুরস্কে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১২ জন ভুক্তভোগী। তারা বিদেশে কাজের সুযোগ পাওয়ার আশায় তাদের জীবনের সব সঞ্চয় তুলে দেন স্থানীয় মোহাম্মদ ইমরান হোসেন শাওনের হাতে। সাড়ে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার পরও তিনি দফায় দফায় টাকা চেয়েছেন ভুক্তভোগীদের কাছে। তাদের দিয়েছেন জাল ভিসা। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি ধরতে পেরে ইমরানের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে ধরিয়ে দেন পুলিশের হাতে। সে সময় ভুক্তভোগীদের একজন উজ্জ্বল খানকেও পুলিশে দেওয়া হয় ইমরানকে সহযোগিতার অভিযোগে; যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জটিলতা।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উজ্জ্বল খান ছাড়াও আছেন শরীয়তপুরের নাইম, রাকিব হোসাইন, মো. শাকিল ও মো. রায়হান বেপারি। এ ছাড়া রয়েছেন মো. কামাল হোসেন, হান্নান সরদার, মো. রবিউল শিকদার, মো. নজরুল ইসলাম, হানিফ আকন্দ, সবুজ ও রিয়াজ হোসেন। তারা তুরস্কে যাওয়ার জন্য মোহাম্মদ ইমরান হোসেন শাওনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইমরান তাদের তুরস্কে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখান এবং শর্তসাপেক্ষে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা করে ২০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আদায় করেন, যা প্রথমে ১৭ লাখ ৫৫ হাজার এবং পরে ৩ লাখ টাকা করে দেওয়া হয় ইমরানকে। ইমরান তাদের প্রতিশ্রুতি দেন যে টাকাগুলো ভিসা, ম্যানপাওয়ার এবং বিমানের টিকিট ব্যবস্থা করতে ব্যবহৃত হবে। প্রথমদিকে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও, যখন এই চক্রটি আরও টাকা দাবি করতে শুরু করে, তখন ভুক্তভোগীদের মনে সন্দেহ হয়।

গত ৩ মার্চ ইমরান ভুক্তভোগীদের জানান, তাদের ভিসা প্রস্তুত হয়ে গেছে এবং আরও ১ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু এ সময় কিছু ভুক্তভোগী সন্দেহ করতে শুরু করেন। তারা ভিসার কপি চাইলে ইমরান মোবাইল ফোনে কপি পাঠিয়ে দেন। ভিসা যাচাই করে দেখা যায়, তা ছিল সম্পূর্ণ জাল। এ ঘটনাটি ধরা পড়ার পর ১২ মার্চ ঢাকার মতিঝিল পার্কে ইমরানের স্ত্রী রোজিনাকে ভুক্তভোগীদের একাংশ পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন। পাশাপাশি তখনই উজ্জ্বল খানকেও সন্দেহজনকভাবে পুলিশে দেন ভুক্তভোগীরা। পরে ভুক্তভোগী নাইম মতিঝিল থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে ইমরানকে প্রধান আসামি করে ইমরানের স্ত্রী রোজিনা ও উজ্জ্বল খানকে অভিযুক্ত করা হয়।

তবে উজ্জ্বল খানের পরিবার এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। উজ্জ্বল খানের ভাই মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ভাই উজ্জ্বলকে হয়রানি করা হচ্ছে। বিদেশগমন-ইচ্ছুক ১১ জনের একজন সমন্বয়কারী হয়ে সবার কাছ থেকে টাকা তুলে ইমরানকে দিয়েছিলেন। ইমরান তখন ১২ জনের ভিসার কপি দেন। কিন্তু পরে যখন ভিসা জাল ধরা পড়ে, তখন পাঁচজন মিলে উজ্জ্বলকে অভিযুক্ত করেন। যদিও চক্রের মূলহোতা ইমরান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার সামনে বসে উজ্জ্বল বিদেশ যাওয়ার জন্য ইমরানকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন। যার ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে আছে আর সাক্ষীও আছে। বাকি টাকা ঢাকায় বসে লেনদেন হয়েছে; যা একটি চুক্তিপত্র দেখেছি, সেখানে উল্লেখ রয়েছে।’

পুলিশ জানায়, রোজিনা ও উজ্জ্বল খানের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা দাবি করছেন, ইমরান হোসেন শাওনের কাছে আত্মসাৎকৃত টাকা জমা

রয়েছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং ইমরানকে গ্রেপ্তার করার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত