স্থায়ী কমিটির বৈঠক

সংবিধান সংস্কারে বিএনপির গুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৬ এএম

দ্বিকক্ষের সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃস্থাপন এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনাসহ সংবিধানে একগুচ্ছ সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এর আগে ঘোষিত দলটির ৩১ দফার ভিত্তিতে এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপির এসব প্রস্তাব আগামী সোমবারের মধ্যে অন্তর্বতী সরকার গঠিত অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশনে জমা দেওয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার রাতে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। একই সভায় নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ বাহিনীর সংস্কারে দলীয় প্রস্তাবগুলোও অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া এক বিএনপি নেতা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে গত বছর ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দেয় বিএনপি। এর মধ্যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারÑ এই তিন বিষয় সংবিধানের মূলনীতি ঘোষণা করা চূড়ান্ত সংস্কার প্রস্তাবনায় আছে বলে জানা গেছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন লিখিতভাবে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব পাঠাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করেছে। এই কমিশন ইতিমধ্যে বিশিষ্ট নাগরিকসহ অন্য অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছে। আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তি বা সংগঠনের পরামর্শ, মতামত ও প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ রেখেছে কমিশন। এরপরই তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে।

সংবিধানসহ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের আলোকে বিএনপিও সংবিধান, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিটি করে। এর মধ্যে পুলিশ সংস্কার কমিটির প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ তার প্রতিবেদন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জমা দিয়েছেন। সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিটির প্রতিবেদনও চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। যথাক্রমে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খান এই দুই কমিটির প্রধান। বিএনপি সংস্কার কমিটিগুলোর তৈরি করা প্রতিবেদন বা প্রস্তাবগুলো সরকার গঠিত ছয় সংস্কার কমিশনের কাছে জমা দেবে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার স্থায়ী কমিটির সভায় স্থানীয় সরকার ও নারী বিষয়ক আরও দুটি সংস্কার কমিটি করার পরামর্শ আসে। এর একটিতে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আরেকটিতে সেলিমা রহমানকে আহ্বায়ক করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ১১ সেপ্টেম্বর নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, সংবিধান ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন করে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই ছয় কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

নানা সংস্কার আলোচনার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। আজ রবিবার নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) চার নির্বাচন কমিশনার (ইসি) শপথ নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এই কমিশন গঠনকে নির্বাচনের পথে বড় অগ্রগতি বলে মনে করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত