সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতার নিন্দা আইএফজের

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৮ এএম

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা-সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে সাংবাদিকদের বৈশ্বিক সংগঠন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে)। গতকাল শুক্রবার ব্রাসেলসভিত্তিক এই সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।

আইএফজের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এক সপ্তাহে দুবার সাংবাদিক শহীদুল ইসলামের ওপর হামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ জুনায়েদ শেখ। বাংলাদেশে আইএফজের অংশীদার বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সঙ্গে এসব হামলার নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে কর্র্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংগঠনটি বলছে, শহীদুল ইসলামের ওপর হামলা হয়েছে গত ৮ নভেম্বর। সেদিন অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৩০ জন খুলনার রূপসায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। শহীদুল ইসলাম খুলনা গেজেটের নিজস্ব প্রতিবেদক ও নিউজ২১ বাংলা টিভির জেলা প্রতিনিধি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, হামলায় গুরুতর আহত হন শহীদুল। এরপর গত ১৫ নভেম্বর ফের তার ওপর হামলা হয়।

আইএফজে বিবৃতিতে বলেছে, সম্প্রতি কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মোহাম্মদ জুনায়েদ শেখের ওপর হামলা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৭ নভেম্বর ছাত্রদলের কিছু কর্মী তার ওপর হামলা চালায়। জুনায়েদ শেখ জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ভিডিওচিত্র ধারণের সময় ছাত্রদল কর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়। সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে হামলাকারীরা।

চলতি বছরে বাংলাদেশে পাঁচজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন উল্লেখ করে আইএফজে বলেছে, সরকারি চাকরিতে বিতর্কিত কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকে বাংলাদেশি গণমাধ্যমগুলোর কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সহিংসতা, হেনস্তা ও হস্তক্ষেপের ভয় ছাড়াই সাংবাদিকদের তাদের দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা খুবই উদ্বেগের। গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার এবং স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত