মহাসড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:৪০ এএম

চারতলা ভবনের নিচের দোতলার অর্ধেকের বেশিই ভেঙে নির্মিত হয় সড়ক। এতে ভবনের ওপরের দোতলার বড় অংশ এখন সড়কের ওপর। ঝুলছে ভাঙার সময় সৃষ্টি হওয়া ছোট-বড় কংক্রিটও। সেই সঙ্গে ভবনটি হেলেও পড়েছে। এ ছাড়া ভবন জুড়ে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। এমন ভয়ংকর দশা নিয়ে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গুটুদিয়া মোড়ে ব্যস্ত জাতীয় মহাসড়কের ওপর দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবন। ভবনটি যেকোনো সময় ধসে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। কিন্তু এটি অপসারণে নেই কোনো উদ্যোগ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে সাতক্ষীরার দূরত্ব ৬৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে জিরো পয়েন্ট থেকে ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজার পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব ২৬ কিলোমিটার। যার সিংহভাগ সড়কই ডুমুরিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে গেছে। এ সড়কে রয়েছে ছোট-বড় অনেকগুলো বাঁক। এর মধ্যে বেশি বিপজ্জনক বাঁক কাঁঠালতলা, বানিয়াখালী ও গুটুদিয়া এলাকায়। তিনটি বাঁকে বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটেছে। হতাহত হয়েছে শত শত মানুষ। তাই দুর্ঘটনা কমাতে ২০২৩ সালে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কাঁঠালতলা, বানিয়াখালী মোড় ও গুটুদিয়া এই তিনটি বাঁক সোজা করা হয়। তবে গুটুদিয়া মোড়ে বাঁক সোজা করতে দায়সারাভাবে ভাঙা হয় চারতলা ভবনের বড় একটি অংশ। কিন্তু ভাঙার পর ভবনটি হয়ে পড়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে গুটুদিয়া মোড়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা আসমত মোড়ল ও রোকোনুজ্জামান জানান, সড়কের মোড় চওড়া করার সময় পাশের চারতলা ভবন বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয়। বুলডোজারের আঘাতে ভবনে অসংখ্য ফাটল দেখা দেয়। এ ছাড়া ভবনের নিচের বড় অংশ ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করা হয়। ওপরের অংশ পরে আর ভাঙা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ভবনের ওপরের অংশ সড়কের মধ্যেই রয়েছে। ভবনটি এখন হেলেও পড়েছে। তা ছাড়া কংক্রিটের খন্ড খন্ড অংশ সড়কে ঝুলে রয়েছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ তুহিনুল ইসলাম তুহিন দেশ রূপান্তরকে জানান, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে গড়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজার ভারী যানবাহন চলাচল করে। সেই সঙ্গে মহাসড়কে নিয়মিত চলাচল করছে থ্রি-হুইলার, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও ইজিবাইক। ফলে এ ভবন ধসে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের মালিক ইকরামুল হক দেশ রূপান্তরকে জানান, ভবনটি রেকর্ডীয় জায়গায় নির্মাণ করা হয়। অথচ সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের জমি দাবি করে জোর করে ভবনের নিচের বড় অংশ উচ্ছেদ করে সড়ক চওড়া করে। চারতলা ভবন ভাঙার পর ওপরের দোতলার বড় অংশ সড়কে ঝুলে পড়ে। তখন তাদের ওপরের অংশ ভেঙে ঝুঁকিমুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু তারা অনুরোধ রাখেনি। পরে ওপরের অংশ ভাঙতেও আসেনি তারা।

তবে এ প্রসঙ্গে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাগর সৈকত ম-ল বলেন, ‘আগে মোড়টির সড়ক ছিল ২৪ ফুট চওড়া। পরে ৪৮ ফুট চওড়া করে চার লেন করা হয়েছে। তখন দ্রুত প্রশস্ত করার কারণে প্রয়োজনমতো উচ্ছেদ করা হয়। তবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে রয়েছে। ফের যখন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তখন ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অপসারণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত