শাকসবজির দাম কমলেও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১২:২০ এএম

দিনাজপুরে বাজারে বেড়েছে শীতকালীন শাকসবজি ও নতুন চালের সরবরাহ। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে শীতকালীন শাকসবজি কেজি প্রতি কমেছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। অন্যদিকে একই সময়ের ব্যবধানে চালের দাম কমেছে বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন সামনে বাজারে শীতকালীন শাকসবজির সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে গত বছর এই সময়ে শীতকালীন শাক-সবজি সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে কিনলেও এবার ৬০ থেকে ৭০ টাকার নিচে কোনো শাকসবজি নেই। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা এখনো শীতকালীন শাক-সবজি কিনতে পারছেন না। আর যারা কিনছেন তারাও অল্প পরিমাণে শাক-সবজি কিনছেন।

দিনাজপুর শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বাহাদুর বাজার। এই বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার এই বাজারে শিম ১০০ টাকা, ফুলকপি প্রতিটি ৭০ টাকা, বাধা কপি ৬৫ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা কেজি, গাজর ১৩০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ও বেগুন ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পুরাতন আলু ৭৫ টাকা এবং নতুন আলু ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। তবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শীতকালীন শাক-সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।

একই বাজারে বিআর-২৮ জাতের চাল ৩০৫০ থেকে ৩১০০ (৫০ কেজির বস্তা) টাকা, বিআর-২৯ জাতের চাল ২৯৫০ থেকে ৩০৫০, গুটি স্বর্ণা ২৪৫০ থেকে ২৫০০ টাকা, নতুন পায়জাম ২৬৫০ থেকে ২৭০০ টাকা, জিরাশাইল ৩২৫০ থেকে ৩৩০০ টাকা, নাজির শাইল ১৮০০ থেকে ১৮৫০ টাকা (২৫ কেজির বস্তা) ও বাসমতি ২১৫০ থেকে ২২০০ (২৫ কেজি) টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তা প্রতি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে শীতকালীন শাক-সবজি ও চালের দাম কমলেও এখনো নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে রয়েছে।

দিনাজপুর শহরে বাসাবাড়িতে কাজ করেন শামসুন নাহার। তিনি বলেন, ‘গত বছর এ সময় শীতকালীন শাকসবজি ৩০ টাকা কেজি দরে কিনে খাইছি। কিন্তু এ বছর তো সবজিতে হাতই দেওয়া যাচ্ছে না। আজকে এক পোয়া শীম ২৫ টাকা ও এক পোয়া বরবটি ৩০ টাকা দিয়ে কিনছি। মানুষের বাড়িতে কাজ যা আয় হয় তা দিয়ে বর্তমানে বাজারে পরিবার চালানো খুবই কষ্টকর।’

ইজিবাইক চালক আসলাম হোসেন বলেন, ‘বাজারে শাক-সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু বর্তমানে যে দাম আছে তাও আমাদের নাগালের বাইরে। আগে শাক-সবজি কিনতাম এক কেজি হিসেবে। আর এখন এক পোয়া হিসেবে কিনতে হচ্ছে। পরিবার তো চালাতে হবে। তাই অল্প হলেও কিনতেছি।’

সবজি বিক্রেতা শরিফ বলেন, ‘গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে শাকসবজির দাম কিছুটা কমেছে। এর কারণ হিসেবে বাজারে শীতকালীন শাকসবজির সরবরাহ বেড়েছে। সামনের সরবরাহ আরও বাড়বে, তখন দাম আরও কমে যাবে। তবে গত বছর যে সব ক্রেতাকে এক কেজি বা দুই কেজি করে সবজি নিতে দেখেছি, সেই ক্রেতা এখন এক পোয়া অথবা আধা কেজি করে সবজি কিনছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত