পুনর্বাসন চান তাজরীন ট্র্যাজেডির আহতরা

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৩ এএম

আজ রবিবার তাজরীন ট্র্যাজেডির এক যুগ পুর্তি। ২০১২ সালের এই দিনে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশন কারখানায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে কারখানাটির ১১৭ জন শ্রমিক নিহত হন। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে কারখানা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ২০০ জন শ্রমিক। এক যুব পার হলেও এখনো সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি হৃদয় থেকে মুছতে পারেননি অগ্নিকা-ে আহত শ্রমিক ও তাদের পরিবার।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পুনর্বাসনসহ আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘ এক যুগে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার হতাহতের পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ এবং আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন বলে আশাবাদী ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।

তাজরীন ট্র্যাজেডিতে নিহত ও আহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৪ নভেম্বর মনে করিয়ে দেয় স্বজন হারানোর বেদনা।

আহত নারী শ্রমিক শিল্পী বেগম জানান, ঘটনার দিন আগুনের লেলিহান শিখা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সিঁড়ি দিয়ে তড়িঘড়ি করে নামার সময় হঠাৎ নিচে পড়ে যান তিনি। এতে তার দুই হাত-পা ও মাজায় প্রচ- আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে দীর্ঘদিন সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপিতে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে ফিরলেও এখনো জীবন যুদ্ধে থেমে নেই। জীবিকার তাগিদে বর্তমানে চায়ের দোকানে চলছে তার সংসার। সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাময়িক কিছু সহায়তা পেলেও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাননি তিনি। বহু পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন পার করছেন।

আহত সবিতা রাণী জানান, কারখানাটির তৃতীয়তলায় তিনি সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। অগ্নিকা-ের ঘটনায় যে সামান্য সহায়তা পেয়েছেন তা চিকিৎসা করাতেই শেষ হয়ে গেছে। বারবার আশ্বাস দিলেও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করা হয়নি। ক্ষতিপূরণ পেলে তিনি গ্রামে গিয়ে কিছু একটা করে সংসার চালাবেন বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনর্বাসনসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

এদিকে বিভিন্ন শ্রমিক নেতারা বলেন, তাজরীনে আগুন লাগার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ গেটে তালা লাগিয়ে শতাধিক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনার ১২ বছর পার হলেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মালিকপক্ষের অবহেলায় পোশাক শিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। অবিলম্বে তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতসহ হাসপাতাল বানিয়ে তাদের পুনর্বাসন করে কর্মসংস্থানের দাবি জানান।

তাজরিন ফ্যাশন কারখানাটিতে ১ হাজার ১৬৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন, দুর্ঘটনার সময় ৯৮৪ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। মরদেহ শনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে পরিবার ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদের মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় তাদের জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত