বকশিগঞ্জে গারোদের ওয়ানগালা উৎসব, মজেছেন বাঙালিরাও

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:১০ পিএম

জামালপুরের বকশিগঞ্জে গারো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ওয়ানগালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শস্য দেবতাকে ফসলের কিছু অংশ তুলে দিতে নানা আয়োজন করে এই সম্প্রদায়ের মানুষ।

রবিবার (২৪ নভেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের গারো পাহাড়ের পাদদেশে দিঘলকোনা এলাকায় সাধু আন্দ্রে ধর্মপল্লীতে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে এ মহোৎসব। ফসলের ভালো ফলন শস্য দেবতা ‘মিসি সালজং’ এর ওপর নির্ভর করে এটা গারোদের বিশ্বাস।

গারো সম্প্রদায়ের লোতজন শস্য দেবতাকে কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ জানিয়ে ও নতুন ফসল আহারের অনুমতি নিতে ওয়ানগালা মহোৎসব পালন করেন। ওয়ানগালার শুরুতেই থক্কা অনুষ্ঠান, শস্য দেবতার উদ্দেশ্যে ফসল উৎসর্গ, প্রবেশগীতি, প্রার্থনা, বাণীপাঠ, উপদেশ ও অর্পনগীতিসহ নানা আয়োজন করে সাধু আন্দ্রে ধর্মপল্লী। এ উৎসবে গারো সম্প্রদায়ের পাঁচ শতাধিক বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন। উৎসবটিকে ঘিরে আনন্দের মেলায় পরিনত হয় পুরো ধর্মপল্লী।

গারো বাসিন্দা সুরভী খোকশি বলেন, ‘শুধু মাত্র এই মহোৎসবের জন্য আমরা ঢাকা থেকে এসেছি। অনেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। এ উৎসবকে ঘিরে আমাদের মিলন মেলায় অনুষ্ঠিত হয়। আমরা বছরের নতুন ফসল আগে শস্য দেবতার কাছে অর্পণ করি। তারপর নিজেরা ঘরে তুলি। এটাই আমাদের রীতি, এটাই আমাদের সংস্কৃতি।’

গারো বাসিন্দা জয় দাংগো বলেন, ‘বাঙ্গালীদের নবান্ন উৎসবের মতো আমাদের ওয়ানগালা উৎসব। আমরা পরিবার, আত্মীয়সহ সবাইকে নিয়ে এ উৎসব উপভোগ করি। এখানে ছোট মেলার আয়োজন করা হয়। বাইরে থেকেও অনেকে আসে অনুষ্ঠান দেখতে। এ উৎসব আমাদের আত্মার উৎসব।’

শুধু গারো সম্প্রদায় নয়। ওয়ানগালার অনুষ্ঠানে অংশ নেন সাধারন বাঙালিরাও। সব পরিবারের ভালোবাসা, আনন্দ এবং দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল কামনা করে ওয়ানগালার প্রার্থনা করা হয়।

সাধু আন্দ্রে ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ডমিনিক সরকার বলেন, ‘এই উৎসব শুধু গারো সম্প্রদায়ের নয়। এই উসব আমাদের সবার। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা প্রার্থনা করি যুদ্ধ থেকে মুক্তি পাক এই পৃথিবী। শান্তিতে ভরে উঠুক এই ধরনী।’

ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর ধর্মপল্লী প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক উৎসব। সেখানে পরিবেশন করা হয় গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য। আর দিঘলকোনা এলাকায় আয়োজন করা হয় ছোট একটি মেলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত