আদালত প্রাঙ্গণে শাজাহান খানের মুক্তি দাবি, স্লোগান

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৪৩ এএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যার অভিযোগে করা দুই মামলায় সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুস সোবহান গোলাপকে প্রথমবারের মতো গতকাল রবিবার মাদারীপুরের আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে ভিড় করেন আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী। দুই নেতার মুক্তির দাবি জানিয়ে সেøাগান দেওয়ার পাশাপাশি তাদের গলায় ফুলের মালাও পরিয়ে দেন তারা।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাজাহান খান ও আবদুস সোবহানকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠান বলে জানিয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন আরমিন।

শাজাহান খান মাদারীপুর-২ (রাজৈর ও সদরের একাংশ) আসনের ও গোলাপ মাদারীপুর-৩ (কালকিনি ও সদরের একাংশ) আসনের সাবেক এমপি। তারা দুজনই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে একটি প্রিজন ভ্যানে শাজাহান খান ও গোলাপকে আদালত চত্বরে আনা হয়। তখন ভ্যানটিকে ঘিরে ধরেন তাদের অনুসারীরা। ভ্যান থেকে নামার পর শাজাহান খান ও গোলাপকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন তারা। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে সেখানে দেখা যায়নি।

এরপর শাজাহান খান ও গোলাপকে আদালতের তৃতীয় তলায় জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও ভিড় করেন তাদের অনুসারীরা। দুই আসামিকে আদালতের কাঠগড়ার পাশে দুটি কাঠের চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়। পরে শুনানি শুরু হলে দুজনই দাঁড়িয়ে বিচারকের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মুক্তির আকুতি জানান।

আদালতে কমপক্ষে ৩০ জন আইনজীবী শাজাহান খান ও গোলাপের পক্ষে জামিনের আবেদন জানান। ১৫ মিনিটের জামিন শুনানি শেষে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। কাঠগড়া থেকে শাজাহান খান ও গোলাপকে নামানোর সময়েও তাদের ঘিরে মুক্তির দাবি জানান নেতাকর্মীরা।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান। পরে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানম-ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এদিকে, ২৫ আগস্ট রাজধানীর নাখালপাড়ার একটি বাসা থেকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার তেজগাঁও থানার পুলিশ। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আলোচিত দুই নেতাকে ঢাকার বিভিন্ন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাত্র আন্দোলনে মাদারীপুরে নিহত দীপ্ত দে ও তাওহীদ সন্ন্যামাত হত্যা মামলায়ও তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে শাজাহান খান ও গোলাপকে মাদারীপুর কারাগারে হস্তান্তর করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত