গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশ ও টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ঠেলাঠেলি শেষে ১০ ঘণ্টা পর গতকাল সোমবার বিকেলে নদী থেকে ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে লাশ ভাসমান থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
নিহতের নাম দুদু মিয়া (৩৫)। তিনি গাইবান্ধার সদর থানার মৌজামালিবাড়ি গ্রামের নেছার উদ্দিনের ছেলে। তিনি অটোরিকশাচালক ছিলেন।
এলাকাবাসী, টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ি ও মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, তুরাগ নদীর কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের গলাচিপা এলাকায় গতকাল সোমবার সকাল ৭টায় এক যুবকের ভাসমান লাশ দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে তারা কালিয়াকৈর থানায় জানালেও মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশ লাশ উদ্ধারে গড়িমসি করে।
তারা জানায়, এ লাশ উদ্ধার করবে নৌপুলিশ। এরপর বিষয়টি টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়িকে অবগত করা হয়। তারাও প্রথমে উদ্ধারকাজে অনীহা দেখায়। এভাবে ওই দুই ফাঁড়ির পুলিশের ঠেলাঠেলিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে লাশ ভাসতে থাকে। খবর পেয়ে গাজীপুর পিবিআই পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে বিকেল ৫টায় নদী থেকে ভাসমান অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়ে তার লাশ নদীতে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহতের চাচাতো ভাই রেজাউল বলেন, ‘আমার চাচাতো ভাই দুদু কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় বাসাভাড়া থেকে অটোরিকশা চালাতেন। গত শুক্রবার বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার পরিবার কালিয়াকৈর থানায় জিডি করে। নিখোঁজের তিন দিন পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেল।’
মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান বলেন, ‘নদীতে থাকা লাশ উদ্ধার করা আমাদের দায়িত্ব নয়। তাই নৌপুলিশকে খবর দেওয়া হয়।’
এ ব্যাপারে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ মর্গে পাঠানো হয়।’
