জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৫তম আসরে এসে অবশেষে শিরোপার দেখা পেয়েছে সিলেট বিভাগীয় দল। একাধিকবার শিরোপার কাছে গিয়েও কাক্সিক্ষত সাফল্য অধরাই থেকে গেছে শাহজালাল (র.)-এর পুণ্যভূমির মানুষদের কাছে। এবারের মৌসুমে সেই সিলেট শিরোপা নিশ্চিত করেছে এক ম্যাচ হাতে রেখে। কোথায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল এবারের মৌসুমে? প্রস্তুতি না খেলোয়াড়? প্রশ্নটা রাখা হয়েছিল সিলেট বিভাগীয় দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ রাজিন সালেহর কাছে। সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক এবং টেস্ট ক্রিকেটার রাজিন দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, অনুশীলনের প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনার পাশাপাশি দলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে পারার কারণেই সিলেট শিরোপা জিততে পেরেছে।
খালেদ আহমেদ, রেজাউর রহমান রাজা, আবু জায়েদ রাহিদের নিয়ে সিলেটের পেস বোলিং ইউনিটটা ধারাল। তবে ব্যাটিংটা একটু দুর্বল, তার ওপর জাতীয় দলের জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে জাকের আলি অনিক ও জাকির হাসানকে। তাদের ছাড়াই কি করে এই সাফল্য? রাজিন জানালেন, ‘আমি বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারকে দলে নিয়েছি। এজন্য আমাকে অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে দেশে-বিদেশে। কিন্তু আমি এসবে পাত্তা দিইনি। সিলেট বিভাগীয় দলের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং তাতে অনঢ় ছিলাম। অমিত হাসান এবার খুব ভালো করেছে। এর বাইরে মুবিন আহমেদ দিশান, আসাদুল্লাহ আল গালিব, তোফায়েল আহমেদ; সিলেটের শিরোপা জয়ে তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আমরা জাতীয় দলের জন্য দুই সেরা ব্যাটসম্যানকে পাইনি। কিন্তু এই তরুণ ক্রিকেটারদের সম্ভাবনাময় মনে করে আমি দলে নিয়েছিলাম, এজন্য অনেক কথা শুনতে হয়েছে। তবে আমার কাজে আমি সৎ ছিলাম, এজন্য আল্লাহ আমাকে হতাশ করেননি। এই তরুণ ক্রিকেটাররা আমার কথা শুনেছে, আমি যা বলেছি তারা সেটা গ্রহণ করেছে এবং আমরা আলহামদুলিল্লাহ সফল হয়েছি।’
সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক এই পরিচালকের অঙ্গুলি হেলনেই চলত সিলেটের ক্রিকেট। রাজিন সরাসরি নাম না বললেও আভাস দিয়েছেন দল নির্বাচনে তার প্রভাবের কথা, ‘আগে বিসিবি থেকে নির্বাচকরা কোনো হস্তক্ষেপ না করলেও স্থানীয়ভাবে অনেক প্রভাব খাটানো হতো। দল গঠনে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার ছিল। দল গঠনের পর একজন উচ্চপর্যায়ের মানুষের কাছে পাঠানো হতো, তিনি সেখানে হস্তক্ষেপ করে নিজের পছন্দের খেলোয়াড়দের নাম ঢুকাতেন, যা আমার কাছে সাবেক অধিনায়ক হিসেবে অত্যন্ত অপমানজনক মনে হয়েছিল। এবার আমি সব জায়গা থেকে সহযোগিতা পেয়েছি তা বলব না, তবে নির্বাচক হান্নান (সরকার) ও রাজ্জাক (আব্দুর) আমরা একসঙ্গে খেলেছি। তারা আমার কোনো সিদ্ধান্তে না বলেনি, জোর করেনি যে অমুক ক্রিকেটারকে খেলাতে হবে এ রকম। বরং সিলেটেই আমি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় অনেকের কাছে অপ্রিয় হয়েছি। তবে দিনশেষে আমরা সফল হয়েছি। সাফল্যের একটা প্রক্রিয়া আছে। সেটা মেনে এগিয়ে চললে এক সময় না এক সময় সফলতা আসবেই।’
রাজিন বিসিবির এইচপি দলের কোচ হয়ে কিছুদিন আগেই গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে। সিলেট স্ট্রাইকার্স বিপিএল দলের কোচ ছিলেন, মাঝারি মানের দলটা প্রথমবার অংশ নিয়েই ফাইনালে খেলেছিল। এবার সিলেট বিভাগীয় দলকে করলেন চ্যাম্পিয়ন। সাফল্যের রহস্য জানতে চাইলে বললেন, ‘কোনো রহস্য নেই। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, এর কোনো শর্টকার্ট রাস্তা নেই। তাছাড়া মিনিংফুল প্র্যাকটিস করতে হবে, কেন কোন কাজটা করা হচ্ছে সেটা বুঝতে হবে। অর্থহীনভাবে সারা দিন অনুশীলন করে কোনো লাভ নেই। আমার অনেক সমালোচনা হয়েছে, অনেকেই অনেক কিছু বলেছে। কিন্তু আমি আমার রাস্তায় ছিলাম, কারও দিকে তাকাইনি। আল্লাহ আমাকে সফল করেছেন।’
