জাকিরের চেয়ে বেশি বল খেলেছেন তাইজুল

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:২১ পিএম

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি যেন এক অমীমাংসিত ধাঁধা। একের পর এক ব্যাটারকে সুযোগ দেওয়া হলেও কেউই স্থায়ী সমাধান দিতে পারছেন না। নতুন বলে প্রতিপক্ষের পেসারদের সামলানোর লড়াই শুরু হওয়ার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হচ্ছে। কখনোবা সেট হওয়ার পরও ইনিংস বড় করতে পারছেন না তারা। তাদের থেকে লোয়ার অর্ডাররা বেশি বল খেলছেন। পরিসংখ্যানও যেন এই সমস্যার কঠিন বাস্তবতার কথা বলে। ২০২১ সাল থেকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ ওপেনারদের গড় মাত্র ২১.৩৭, যা টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। এই সময়ে একশর বেশি রানের ওপেনিং জুটি এসেছে মাত্র একবার, যা দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার বড় উদাহরণ।

চলতি বছরে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। বাকি আছে আরও একটি। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশি ওপেনারদের চেয়ে তাইজুল ইসলাম যেন বেশি বল খেলেছেন। পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায় জাকির হাসান এই বছর ১৬ ইনিংসে খেলেছেন ৪৯২ বল। ইনিংস প্রতি গড়ে তিনি মোকাবেলা করেছেন মাত্র ৩০ বল। তার চেয়ে চার ইনিংস কম খেলা তাইজুল ৪২৪ বল মোকাবেলা করেছেন। গড়ে সেটা দাঁড়াচ্ছে ৩৫। সাদমান ১২ ইনিংসে ৫১৪ বল খেলে গড়ে প্রায় ৪৩টি ও মাহমুদুল হাসান জয় ১০ ইনিংসে ৪০৮ বল খেলে গড়ে মোকাবেলা করেছেন ৪০টি বল।

পরিসংখ্যান প্রমাণ করে বাংলাদেশের ওপেনাররা ধারাবাহিকভাবে বাজে খেলে যাচ্ছেন। তাদের এত বেশি ব্যাটিং টেকনিক্যাল ভুল ধরা পড়ছে যে সেগুলো আর শুধরানো হচ্ছে না। ম্যাচের পর ম্যাচ একইভাবে ভুল করে যাচ্ছেন তারা। উইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই একইভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন জয়। আলজারি জোসেফের অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট লেংথের ডেলিভারিটি বাউন্স করে সোজা গিয়েছিল। সেটাই জয়ের ব্যাটে এজ হয়ে স্লিপে থাকা এলিক অ্যাথান্জের হাতে ক্যাচ হয়। দ্বিতীয় ইনিংসেও জয় একইভাবে আউট হয়েছেন।

জয় আউট হওয়ার আগে জোসেফ একের পর এক শর্ট লেংথে বল করে যাচ্ছিলেন। একটা পর্যায়ে গিয়ে তিনি উইন্ডিজ বোলারের পাতা ফাঁদে পা দেন। শট খেলার আগে তার ফ্রন্ট ফুটের প্রথম স্টেপটাই ছিল অ্যাক্রোস শেইপে। বারবার তিনি একইভাবে শট খেলে যাচ্ছিলেন। এভাবে খেলতে গিয়ে যদি গোড়ালির পজিশনটা যদি পয়েন্ট বা কাভারের দিকে তাক করা থাকে, তখন মাথার পজিশনও সঠিক জায়গা থেকে সরে যায়। ফলে যেদিকে শট নিতে যায় ব্যাটসমস্যান, সেটা না হয়ে উল্টোটা হয়। একই বিষয় ঘটেছে জয়ের ক্ষেত্রে।

এটা শুধু জয় একাই না। বাংলাদেশের বেশিরভাগ টপ অর্ডারেরই দৃশ্যমান ত্রুটি। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ চলাকালে নাজমুল হোসেন শান্তরও এ ধরণের ভুল চোখে পড়েছিল শন পলকের। তিনি সেটার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাটাররা যখন অ্যাক্রস শেইপে যাওয়ার পর সামনের পা চলে যায় পয়েন্ট বা কাভারের দিকে। এই সময়টাতে ইনিশিয়াল ফুট শেইপটাকে যে ব্যাটসম্যান যত বেশি স্ট্রেইটিস্ট রাখতে পারেন মিড অফ, মিড অন অথবা স্ট্রেইট বরাবর রাখতে পারেন তত বেশি মাথার পজিশন ও আই লাইন সরে না যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।’

উইন্ডিজ সিরিজে জাকির হাসানের পায়ের পজিশনও একই রকম ছিল। ফলে তার মাথা সরে গিয়েছিল অফ স্টাম্পের অনেকখানি বাইরে। যে কারণে বাংলাদেশের টপ অর্ডাররা গড়ে ৩০-৪০টির বেশি বল খেলতে পারছেন। গড়া হচ্ছে না বড় কোনো ইনিংস।  অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরির পর আর কোনো শতরান নেই জাকিরের। সবশেষ ফিফটিও এসেছিল গত মার্চে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত