ময়মনসিংহের মাসকান্দায় বিসিক শিল্প নগরীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে হেকেম বাংলাদেশ লিমিটেড নামক একটি কীটনাশক গোডাউনে আগুন লাগে।
জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর বিসিক শিল্পনগরীর কীটনাশক তৈরির কারখানার গুদামে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ময়মনসিংহ, ত্রিশাল, মুক্তাগাছা দমকলের আরও আটটি ইউনিটসহ মোট ১১টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। দীর্ঘ ২ ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর সাড়ে ১২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আশপাশে পানির সুব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নেভাতে বেগ পোহাতে হয়। আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কারখানাটির ব্যবস্থাপক জামাল উদ্দিন জানান, কীটনাশক তৈরির কাঁচামাল বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করে গুদামে সংরক্ষণ করা হতো। পরে সংরক্ষণ করে পাশের কারখানায় প্যাকেজিং করা হতো। কীটনাশক তৈরির ধার্য পদার্থে হঠাৎ আগুন লাগলে মুহূর্তেই তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কারখানাটি পুরোপুরিভাবে ভস্মীভূত হয়েছে। গুদাম ভর্তি মালামাল ছিল। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা হিসাব না করে বলা যাবে না।
কোম্পানিটির ময়মনসিংহের এরিয়া ম্যানেজার হারুন অর রশিদ বলেন, কীটনাশক তৈরির সব ধরনের দ্রব্য এই কারখানায় রাখা হতো। সেটি তালা দেওয়া থাকত। শুধু একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানো থাকত সারাদিন। আর একজন গার্ড সেটি পাহারা দিতেন। তবে আগুন কীভাবে লেগেছে তা বুঝতে পারছি না।
প্রতক্ষদর্শী মোখলেছুর রহমান বলেন, বিসিকের সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ আগুন দেখতে পাই। সেই সাথে প্রচণ্ড কালো ধোয়া দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে কারখানার পাশেই বসে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড কালো ধোয়া দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে দেখি কীটনাশক তৈরির কারখানায় আগুন লেগেছে। আমরা তা নেভানোর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। ততক্ষণে আগুনের প্রচণ্ড ভয়াবহতা বেড়ে যায়। কারখানার ভেতরে থাকা ড্রামগুলো প্রচণ্ড বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হচ্ছিল।’
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, বিসিক শিল্পনগরীর এ/৩ নম্বর ব্লকে এম রহমান ইন্ডাস্ট্রিয়ালের গোডাউন ভাড়া নেয় হেকেম বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানে কেমিক্যালসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ রাখা ছিল। এই গুদামে সকাল ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
তিনি আরও বলেন, বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় পানির সংকটের কারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশ বেগ পেতে হয়। তবে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পানি এবং ফোমের সাহায্যে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। কীটনাশকের কারখানা হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তের পর আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
ইসকনের বাধায় কুলাউড়ায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লুট হওয়া ডালের বস্তা মিলল খোলা মাঠে