মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পরপর কয়েকটি বিকট শব্দের বিস্ফোরণে সীমান্তের এপারে বাংলাদেশ অংশের বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর কেঁপে উঠেছে। এতে সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিন থেকে পাঁচটি বিকট শব্দ শুনতে পান টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বাসিন্দারা।
মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা সরকারের বাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাত চলছে গত এক বছর ধরে। এই এক বছরের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতের বিস্ফোরণে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে পর পর ৩-৫টি বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। আর বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত এলাকার বসতঘর, ভবন থরথর করে কেঁপে ওঠে। এতে আতঙ্কিত হয়ে ঘর, অফিস বা দোকানে বসে থাকা মানুষ বাইরে ছুটে আসেন। পরে রাতেই সীমান্ত এলাকার লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তাদের আতঙ্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। আজিজুল হক রানা নামে ঘুমধুম সীমান্তের এক ব্যক্তি লিখেন, ‘ঘুমধুম সীমান্তের মিয়ানমার অভ্যন্তরে পর পর তিনটি বোমার বিস্ফোরণ! বিকট শব্দে প্রকম্পিত এপার।’
টেকনাফ পৌরসভার কুলালপাড়ার বাসিন্দা এবং একটি জাতীয় দৈনিকের টেকনাফ প্রতিনিধি আব্দুস সালাল লিখেছেন, ‘সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্কিত টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।’
টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর হোসেন আহমদ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘বারবার বিকট শব্দ, হে আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন।’
সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণে আতঙ্ক প্রকাশ করে নুরুল আমিন আকাশ নামে আরেক একজন লেখেন, ‘রাতের আকাশে বিমান চলাচল, বিকট শব্দে কাঁপছে টেকনাফ শহর।’
টেকনাফের সাংবাদিক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশেকুল্লাহ লেখেন, ‘স্মরণকালের মিয়ানমারের শক্তিশালী বোমার বিকট শব্দে টেকনাফ কাঁপল।’ একইভাবে নিজেদের আতঙ্কের কথা তুলে ধরেন আরও অনেকেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতের বিস্ফোরণের শব্দটি অনেক বেশি ভয়াবহ। এমন শব্দ আর কখনো শোনা যায়নি।’
