স্বেচ্ছায় মৃত্যু বৈধতা পাচ্ছে যুক্তরাজ্যেও!

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৩ এএম

বিশ্ব জুড়ে সাড়া ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাটি চলতি বছরের মে মাসের। ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের অনুমতি পান এক তরুণী। জোরায়া বিক নামের ২৯ বছর বয়সী ওই তরুণী ২০২০ সালে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন করেন। দীর্ঘ চার বছর পর তিনি অনুমতি পান। এর কিছুদিন পরে তিনি একটি কঠোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের ইচ্ছা পূরণ করেন অর্থাৎ স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেন। জোরায়া বিক আসলে ভয়ংকর রকমের মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তার মনে হয়েছিল, এভাবে বেঁচে থেকে পরিবারের অন্যদের কষ্ট দেওয়ার চেয়ে মৃত্যুর মধ্য দিয়েই মুক্তি পেতে পারেন তিনি। 

এই তরুণীর মতো যেসব ব্যক্তি কঠিন রোগে ভুগছেন এবং সেরে ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই তারাও স্বেচ্ছায় মৃত্যুর অনুমতি পেতে পারেন দেশটিতে। ২০০২ সাল থেকেই নেদারল্যান্ডসে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের আইন রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের মতো যুক্তরাজ্যে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে স্বেচ্ছায় মানুষের মৃত্যুকে বৈধতা দিতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন এমপিরা। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে অ্যাসিস্টেড ডায়িং বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন তারা। হাউজ অব কমন্সের অধিবেশনে এই বিল নিয়ে এমপিদের ৫ ঘণ্টার বিতর্ক শেষে ভোটাভুটি হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ৩৩০ ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৭৫ ভোট।

এর মধ্য দিয়ে বিতর্কিত এই বিলটি কমন্সে অনুমোদন পাওয়ার পথে প্রথম ধাপ পেরোলো। এখন আইনে পরিণত হওয়ার আগে বিলটি নিয়ে পার্লামেন্টে আরও যাচাই-বাছাই চলবে।

বিলটি আইনে পরিণত হলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মানুষরা যারা নিরাময়যোগ্য নন এমন অসুস্থতায় ভুগছেন, কিংবা ছয় মাস বা তারও কম সময় বাঁচবেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন তারা চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আগেই মৃত্যুবরণ করার অধিকার পাবেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কমন্সে এই ভোটের পর বিলটি নিয়ে আরও কয়েক মাসের বিতর্ক শুরুর পট প্রস্তুত হলো। বিলটি এখনো পরিবর্তন হতে পারে কিংবা ভোটে প্রত্যাখ্যাতও হতে পারে। কারণ, বিলটি নিয়ে এখনো হাউজ অব কমন্সে যেমন কাটাছেঁড়া চলবে তেমনি উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসেও বিলটিকে আরও ধাপ পেরোতে হবে।

যুক্তরাজ্যের লেবার দলের এমপি কিম লিডবিটার বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছিলেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, এই বিল অনুমোদন খুবই পুঙ্খানুপুঙ্খ একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। এ প্রক্রিয়ায় ছয় মাস লেগে যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বিলটি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ দূর করতে তিনি খোলামেলা আলোচনায় রাজি আছেন।

বিলটির পক্ষে যারা তারা বলছেন, গুরুতর এবং অনিরাময়যোগ্য রোগে ভোগা মানুষদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে দ্রুত মৃত্যুর ব্যবস্থা করবে এই বিল। তবে বিলের বিরোধীরা বলছেন, অনেক অসুস্থ মানুষই পরিবার এবং সমাজের জন্য নিজেকে বোঝা মনে করে নিজেদের সুস্থতার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার না দিয়ে আগেই তাদের জীবনের ইতি চাইতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত