দিনদিন ব্যস্ততা বেড়েই চলছে। নানা উদ্যোগে আমাদের কাজের সুযোগ বেড়েই চলছে। কর্মজীবী হিসেবে দিনের অনেকটা সময় আমরা বাড়ির বাইরে থাকি। কর্মজীবী মা-বাবার পক্ষে অফিস বা ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় সন্তানকে সময় দেওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চাকরি বা ব্যবসায়িক কাজের পাশাপাশি সন্তান জন্মের পর থেকে শুরু হয় আরেক লড়াই। কর্মস্থলের কাজের চাপে বা নানাবিধ ব্যস্ততায় সন্তান ধারণ ও প্রাথমিক লালন-পালনের বিষয়টাই বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলাফল, নিরাপত্তার পাশাপাশি সন্তানের মানসিক বিকাশ আজ প্রশ্নবিদ্ধ। কর্মজীবী মা-বাবারা একটু কৌশলী হয়ে সন্তানের জন্য সময় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে কর্মজীবীদের ৯টা-৫টা চাকরি করতে হয়। কোনও কোনও সময় আরো বেশি কর্মঘণ্টা থাকে। ছুটির ক্ষেত্রে আমাদের সাপ্তাহিক এক দিন, বা দুই দিন ছুটি দেখা যায়। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ছুটির দিনে ঘর ও অফিসের কাজের সমন্বয়ে একটা দৈনিক রুটিন করে ফেলতে হবে আপনাকে।
নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে সন্তানকে নির্ধারিত একটি দিন দেওয়ার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন অফিসের আগে ও পরে সন্তানের খোঁজখবর নিন। কোনোভাবেই যেন তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না হয়। আমরা যারা বাবা-মা আছি তাদের উচিৎ প্রতি সপ্তাহে কিংবা মাসে অন্তত একদিন সন্তানদের বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। এতে করে বাচ্চাদের মন-মানসিকতা ভালো থাকবে এবং তাদের বিকাশ লাভে সহায়তা করবে।
এছাড়া নিরাপত্তার জন্য বাসায় একটা ভিডিও ক্যামেরা লাগিয়ে নিতে পারেন। আপনার পাশের ফ্ল্যাটের সমমনা কাউকে ভালো বন্ধু বানাতে পারেন। তাদের বাচ্চাদের সঙ্গে আপনার বাচ্চার সখ্য উভয়েরই মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে। আপনার বাচ্চা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা কোনো জরুরি কাজের জন্য প্রয়োজনে তাদের সাহায্য নিতে পারেন। সর্বোপরি, সব অফিসে না হলেও অনেক অফিসেই ডে-কেয়ার থাকে, আবার কর্মব্যস্ত অনের এলাকায়ই এখন ডে-কেয়ার গড়ে উঠেছে। সেখানেও আপনার সন্তান রাখতে পারেন।
সন্তানের বয়স বুঝে আপনার যত্ন নেওয়ার পরিকল্পনা নিতে হবে। তিন বছরের নিচের শিশুদের যত্নে বেশ বেগ পেতে হয়। এ ক্ষেত্রে নিজের কাজ, নিজের জীবন ও সন্তানকে একসুতোয় বাঁধতে চেষ্টা করুন। সন্তানের খাওয়াদাওয়া ও মানসিক বিকাশে নিজেকে তৈরি করতে হবে। কাজ নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। কাজের আট ঘণ্টার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে হবে। তার মনমেজাজ বুঝে আপনি নিজেকে তৈরি করুন। কোনো কারণে দূরত্ব তৈরি হলে তা কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন।
দাম্পত্যসঙ্গীর সঙ্গে পরামর্শ করে সময় ভাগ করে নিন। সন্তানের বয়স চার বছরের বেশি হলে স্কুল বা প্রি-স্কুলে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তার সামাজিক বিকাশের সুযোগ বাড়বে। স্কুলের সময়টায় শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকে বলে কিছুটা কম দুশ্চিন্তা হবে আপনার। সন্তানের সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা আলাদা সময় দিন। এতে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া হবে, প্রকৃতিতে হাঁটাচলা কিংবা পার্কে যাওয়ার সুযোগ থাকলে নিজের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
বিশ্বে প্রথমবারের মতো বেলজিয়ামে যৌনকর্মীদের জন্য নতুন আইন
মগবাজার ক্রসিংয়ে গাড়ির ওপরে উঠে গেল ট্রেন