হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েও মুক্তি পেলেন না স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুনে বাদী থেকে আসামি বনে যাওয়া আলোচিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার। গতকাল রবিবার বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল বাবুলের। কিন্তু তার জামিন-সংক্রান্ত কাগজপত্র বিকেল পৌনে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের হাতে আসে। নথি যাচাই-বাছাই শেষে তিনি মুক্তি পাবেন। ফলে আজ সোমবার তিনি মুক্তি পাবেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ তার আইনজীবীকে জানিয়েছেন।
বিকেল ৪টা থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে ভিড় করতে থাকেন অসংখ্য গণমাধ্যমকর্মী। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জানা গেল বাবুল আক্তার মুক্তি পাচ্ছেন না। এদিকে বাবুল আক্তার জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন এমন খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে কারা ফটকে আসেন মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ভোলা। যার বিরুদ্ধে মিতুকে খুন করতে আসামিদের অস্ত্র সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে পিবিআই। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি অভিযোগ করে জানান, সাবেক পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার চক্রান্ত করে বাবুল আক্তারকে তার স্ত্রী হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। বাবুলের সঙ্গে বনজের প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ছিল। ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের বাহার মার্কেটে স্বর্ণের গুদাম থেকে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্বটা তৈরি হয়। সেদিন অভিযান বন্ধ করতে রাজি না হওয়ায় বাবুলকে মিতু হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন এসি মো. কামরুজ্জামান। পরে পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে অন্তত ১ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। আমাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে পিবিআই। বাবুল আক্তারই তার স্ত্রী মিতুকে খুন করেছেন এমন বক্তব্য দিতে আমাকে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা চাই মামলাটির আবার সাক্ষ্য নেওয়া হোক। আমার বিশ্বাস, আমরা ন্যায়বিচার পাব ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে বাবুলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
বাবুল আক্তারের সঙ্গে অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য ছয় আসামি হলেন মো. কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা, এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা, মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম ওরফে কালু ও শাহজাহান মিয়া। তাদের মধ্যে বাবুল, ওয়াসিম, শাহজাহান ও আনোয়ার কারাগারে আছেন। এহতেশামুল জামিনে, কামরুল শিকদার মুসা ও খাইরুল ইসলাম কালু শুরু থেকে পলাতক।
২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি এলাকায় মাহমুদাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন ৬ জুন বাবুল বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই ২০২১ সালের ১২ মে এই মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। একই দিন বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে নগরের পাঁচলাইশ থানায় দ্বিতীয় মামলাটি করেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন। ওইদিনই মামলাটিতে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পিবিআই। সেই থেকে কারাগারে বাবুল।
