রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের যোদ্ধাদের মনোবলে চিড় ধরেছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর চলতি বছর ইউক্রেনীয় সেনাদের যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালানোর হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছেÑ ২০২২-২০২৩ সাল মিলিয়ে যে সংখ্যক ইউক্রেনীয় সেনা যুদ্ধের ময়দান ছেড়েছিলেন, চলতি বছর প্রথম ১০ মাসে তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সেনা ময়দান ছেড়ে পালিয়েছেন। এতে করে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সংকট নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পালিয়ে যাওয়া সেনাদের বিরুদ্ধে অন্তত ৬০,০০০ মামলা করেছেন ইউক্রেনীয় প্রসিকিউটররা। যুদ্ধ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে হবে। সামরিক সদস্যরা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে, রোটেশনের ভিত্তিতে ৪ সপ্তাহের বিশ্রাম এবং পুরনায় ট্রেনিং নিতে যে সংখ্যক সেনা প্রয়োজন, তা বর্তমানে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর নেই। যারা যুদ্ধে মারা যাচ্ছেন, তাদের জায়গায় স্বল্প বা অপ্রশিক্ষিত, অযোগ্য শিক্ষানবিশ দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা চলছে।
এর আগে, ইউক্রেনীয় কমান্ডাররা বলেছিলেন, ফ্রন্টলাইনে নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাদের মধ্যে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশই তাদের প্রথম রোটেশন শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে নিহত বা আহত হয়েছেন। আবার ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েও অনেকে পালিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি পোলিশ নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১২ জন ইউক্রেনীয় সেনা পোল্যান্ডে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় ট্রেনিংসেন্টার থেকে পালিয়ে গেছেন। এ সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেনের এক মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রায় ২ লাখ ইউক্রেনীয় সেনা ময়দান ছেড়েছেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের অন্তত ৫ লাখ সেনা নিহত হয়েছেন। ব্যাপক এই ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ সেনা বর্তমানে যুদ্ধের ময়দানে সক্রিয় আছেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার মাধ্যম আরটি জানিয়েছে, অনিচ্ছুক লোকদের রাস্তা, এমনকি নাইট ক্লাব থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে সামরিক দায়িত্বে বসানো হয়েছে।
