অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক স্ত্রী নীলা ইসরাফিল বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মুয়াজ আরিফের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। গতকাল সোমবার সকালে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মামলা নথিভুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে গতকাল দুপুরে রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্যাতনের অভিযোগে রমনা থানায় একজন ভুক্তভোগী নারী মামলার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নারী নির্যাতন আইনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এ মামলায় একমাত্র আসামি মুয়াজ আরিফ। তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এর আগে গত রবিবার রাতে ভুক্তভোগীরা রামনা থানায় মামলা করতে চাইলে রাতে মামলা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে গতকাল সকালে থানার সামনে ভুক্তভোগীরা হট্টগোল করেন। পুলিশ সদস্যের মোবাইল কেড়ে নেওয়া এবং পুলিশের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটে। সে সময় নীলা বলেন, ‘রবিবার রাত থেকে মামলা করতে চাইলে থানা-পুলিশ মামলা নিচ্ছিল না। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ যখন দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তি মুয়াজ আরিফ উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে, তখন সবাই উঠে চলে যায়। মামলা নেয়নি। তাই মামলা নিতে পুলিশকে আমার বিষয়ে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে নীলা ইসরাফিলের সঙ্গে মুয়াজ আরিফের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসার জীবনে দুটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। ২০২১ সালে আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়। পরে ফের বিয়ের জন্য বললে মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে রাজি হন বাদী। চলতি বছরের ২৯ নভেম্বর ঢাকা ক্লাবে যান। সেখানে দীর্ঘসময় কাটানোর একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নীলার সঙ্গে মুয়াজের তর্কবিতর্ক হয়। সেখানে শ্লীলতাহানি, ধারালো ছোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত ও প্রাণে মেরে ফেলতে গলা চেপে ধরেন। এ ছাড়া ওইদিন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকাকালে নীলার বাসায় প্রবেশ করে ল্যাপটপ, মোবাইল, সার্টিফিকেট ও কয়েকটি ডিভাইস নিয়ে যায়। সেই ডিভাইস থেকে মুয়াজের স্ত্রী প্রীতি সাইদ তার ফেসবুকে ছেড়ে ভাইরাল করেন।
মামলা ও থানায় তর্কবির্তকের বিষয়ে জানতে চাইলে নীলা ইসরাফিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাকে অফার করা হয়েছে মীমাংসার জন্য। মুয়াজের সঙ্গে আমার বিয়ে হয় ২০১৮ সালে। ডিভোর্স হয় ২০২১ সালে। আমি ন্যায়বিচার চাই। হাসান আরিফের সঙ্গে মীমাংসা বৈঠকেও বসতে রাজি। কিন্তু প্রতিটি অন্যায়, অবিচার ও নির্যাতনের বিচার হতে হবে। ২০১৮ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত যে সময় গেছে, সেটা ফিরিয়ে দিতে হবে।’
