এক ম্যাচ বাকি থাকতে শিরোপা নিশ্চিতের পর জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডে হেরে গেছে সিলেট। তাতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাওয়া পূরণ হলো না প্রথমবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের শিরোপা জয়ী দলটির। আসরের শেষ রাউন্ডে এসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে বরিশাল। রোমাঞ্চকর ড্র হয়েছে খুলনা-রংপুর ম্যাচ।
ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে দুদলের জয়ের চেস্টা
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষ দিন প্রথম সেশন শেষে ৬ উইকেটে ১৪৭ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দেয় খুলনা। রংপুরের সামনে দাঁড়ায় ২৫৯ রানের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে পেসার মেহেদি হাসানের তোপে ১০২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে রংপুর। পরে নবিন ইসলামকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়েন তানবীর হায়দার। ৩২ রান করে নবিন আউট হওয়ার সময় দিনের খেলা এক ঘণ্টার বেশি বাকি ছিল। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তানবীর ও আরিফুল হক ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে কয়েক ওভার খেলা হলে ম্যাচ জেতার চেষ্টা করেন। তবে শেষপর্যন্ত সফল হননি। তানবীর ৮ চারে ১৩৩ বলে ৭৮ ও আরিফুল ৭ চারের সঙ্গে ১ ছক্কায় ৫২ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।
খুলনার হয়ে ৪ উইকেট নেন মেহেদি। এর সঙ্গে প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন বাঁহাতি পেসার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা ১ম ইনিংস: ২৪৪
রংপুর ১ম ইনিংস: ১৩৩
খুলনা ২য় ইনিংস: ২৮ ওভারে ১৪৭/৬ ডিক্লে. (আগের দিন ৬/০) (এনামুল ১৪, অমিত ৩৯, রবিউল ০, মিঠুন ৯, নাহিদুল ২৬, জাওয়াদ ৫, পারভেজ ৩১*, মাসুম ১৮*; মুকিদুল ৯-০-৪৮-৩, মেহেদি ৮-০-৪৯-১, রিজওয়ান ৫-০-১৫-০, আরিফুল ৬-০-৩২-২)
রংপুর ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৫৯) ৫৫ ওভারে ২৪২/৭ (মিম ১৫, নজরুল ৫, খালিদ ২৭, রিজওয়ান ২, মামুন ০*, নাঈম ১৫, তানবীর ৭৮*, নবিন ৩২, আরিফুল ৫৬*; আল আমিন ৮-২-৩৫-০, মাসুম ১৩-৩-৪৮-২, মেহেদি ১৪-০-৭০-৪, পারভেজ ৪-০-২২-০, নাহিদুল ৩-০-১৩-০, আরিদুল ১৩-১-৪৩-১)
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যান অব দা ম্যাচ: মেহেদি হাসান
নিহাদউজ্জামানের ৫ উইকেট, রাজশাহীর জয়
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে আসরের শেষ দিন মাত্র ২.৪ ওভারে সিলেটের বাকি ২ উইকেট তুলে নিয়ে ৫৪ রানের জয়ে আসর শেষ করেছে রাজশাহী। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেওয়া নিহাদউজ্জামান দ্বিতীয়বার নেন ৫টি। তিনিই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ২২৬
সিলেট ১ম ইনিংস: ২১২
রাজশাহী ২য় ইনিংস: ১৮৬
সিলেট ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২০১) ৪৩.৪ ওভারে ১৪৬ (আগের দিন ১৪২/৮) (সফর ৩*, নাবিল ২, নাঈম আহমেদ ২; শফিকুল ১৩-০-৪৯-৩, নিহাদউজ্জামান ১৪.৪-৪-২৪-৫, আসাদুজ্জাম্ন ৪-০-১৯-০, ওয়াসি ২-০-১৪-০, মেহেরব ৮-৪-২৩-১, সাব্বির ২-০-১৫-০)
ফল: রাজশাহী ৫৪ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: নিহাদউজ্জামান
শেষ ম্যাচে বরিশালের প্রথম জয়
লিগের শেষ রাউন্ডে এসে এবারের আসরে প্রথম জয় পেয়েছে বরিশাল। রুয়েল মিয়ার চমৎকার বোলিংয়ে ঢাকাকে ১২২ রানে হারিয়েছে তারা। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ২২১ রানের লক্ষ্যে ৯৮ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকা। প্রথম ইনিংসে বরিশালের ২৮৯ রানের জবাবে ঢাকা করে ৯ উইকেটে ৩১০ রান। পরে বরিশাল অলআউট হয় ২৪১ রানে। সাত ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে মাত্র ১২ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থেকে আসর শেষ করল বরিশাল। সমান ম্যাচে দুই জয় ও চার ড্রয়ে ২৫ পয়েন্ট ঢাকার।
প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট নেওয়া রুয়েল দ্বিতীয়বারে নেন ৬টি। তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। আসরজুড়ে দারুণ বোলিং করা এনামুল হক নেন ৪ উইকেট। সব মিলিয়ে ১৪ ইনিংসে ৩৬ উইকেট নিয়ে আসরের সবচেয়ে সফল বোলার ঢাকার ২৪ বছর বয়সী এই পেসার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বরিশাল ১ম ইনিংস: ২৮৯
ঢাকা ১ম ইনিংস: ৩১০/৯ ডিক্লে.
বরিশাল ২য় ইনিংস: ৯৭.৫ ওভারে ২৪১ (আগের দিন ২০৭/৫) (মইন ৪০, রুয়েল ১, সোহাগ ০, শামসুল ১২*, তানভির ৯, মোজম্মেল ০; সুমন ১৪-৪-৩৩-১, সালাউদ্দিন ১৭-৬-৪৪-৩, এনামুল ১১-৩-৪৪-২, মোসাদ্দেক ২০.৫-৮-২৭-২, মাহফুজুর ২০-৪-৪৪-১, আরিফুল ৬-৩-১৩-০, তাইবুর ৯-২-২১-১)
ঢাকা ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২২১) ৩৮.২ ওভারে ৯৮ (জিসান ৪, রনি ৩৭, আরিফুল ২১, আহরার ০, আশিকুর ৮, মোসাদ্দেক ৪, তাইবুর ১৭, সুমন ৪, মাহফুজুর ১, এনামুল ০, সালাউদ্দিন ০*; রুয়েল ৯-২-২৮-৬, মোজাম্মেল ৭-০-২১-২, মইনুল ৭-০-২১-১, সোহাগ ৮.২-২-১৪-১, মইন ৭-২-১২-০)
ফল: বরিশাল ১২২ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: রুয়েল মিয়া
