নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেকগুলো অপরাধ, বিচার হওয়া উচিত

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৯ এএম

নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। বৈঠকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কীভাবে হবে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী করা দরকার, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আলোচনা হয়েছে নির্বাচন কমিশন ও তাদের দায়দায়িত্ব, ক্ষমতা ও স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয় নিয়েও।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার ও নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নতুন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য বদ্ধপরিকর এবং আমরাও আমাদের অবস্থান থেকে সুচারুরূপে সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে পারে ও সফল হয় এমন সংস্কার প্রস্তাব দেব, যেগুলো তারা কিছু বাস্তবায়ন করবে আবার কিছু সরকার বাস্তবায়ন করবে। আর কিছু সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বাস্তবায়ন করবে।’

ইসির ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়ে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা আছে এবং সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের খাতিরে দিনকে রাত, রাতকে দিন করা ছাড়া সবই করতে পারে। আমাদের আইনে বলা আছে এবং আদালতের রায়ে (এটি) সুস্পষ্ট বলা আছে। আলতাফ হোসেন বনাম আবুল হোসেনের মামলায় আমাদের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের খাতিরে আইনকানুন-বিধিবিধানের সঙ্গে সংযোজন করতে পারে। যেখানে অস্পষ্টতা আছে, যেখানে গ্যাপ আছে, সেগুলো তারা পূরণ করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের অগাধ ক্ষমতা আছে।’

বিগত তিন কমিশন নাকি সব কমিশনকে বিচারের আওতায় আনবেন এমন প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম বলেন, ‘যারাই অপরাধ করেছে, সবাইকে আসতে হবে। এগুলো তো সুস্পষ্টভাবে আলোচনা হয়নি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ৭৩ থেকে ৯০ ধারার মধ্যে নির্বাচনের অপরাধের বিষয়গুলো বর্ণনা আছে। এগুলো যাতে যথাযথ প্রয়োগ হয়, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেকগুলো অপরাধ হয়েছে। এই অপরাধের বিচার হওয়া দরকার। সেটাও আমরা আলোচনা করেছি। যারা অপরাধ করেছেন, যাদের অপরাধ প্রমাণ হবে, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আসতে হবে।’

আগের কমিশন যুক্তি দিত, ফলাফল হওয়ার পর কমিশনের আর অপরাধের শাস্তি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না বিষয়টি সামনে আনলে বদিউল আলম বলেন, ‘তারা ইচ্ছে করলেই করতে পারতেন। গেজেট হওয়ার আগে তদন্তসাপেক্ষে (আদালতের সুস্পষ্ট রায় আছে) তারা নির্বাচন বাতিল করতে পারতেন এবং নির্বাচন শুধু বাতিল নয়, তদন্তসাপেক্ষে পুনর্নির্বাচন দেওয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ ক্ষমতা তারা ব্যবহার করেননি।’

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ‘আজকে আমরা ছিলাম অনেকটা শ্রোতা। ওনারা কীভাবে ভাবছেন সেটা শুনেছি। পাশাপাশি আমরা ইন্টারেক্ট করেছি সব বিষয়ে। যে জায়গায় আমরা এখান দাঁড়িয়ে আছি, কীভাবে একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি হচ্ছে আস্থার ঘাটতি। নির্বাচনব্যবস্থার ওপর সেটা কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, সেসব বিষয়ে কথা হয়েছে।’

নির্বাচন কখন হওয়া উচিত, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সময় নিয়ে কোনো আলোচনা এখানে হয়নি। নির্বাচন কীভাবে হওয়া উচিত, নির্বাচন ভালো করার জন্য কী করা দরকার, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে অন্য নির্বাচন কমিশনাররা ও সংস্কার কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত