হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার রান্নায় ব্যবহৃত হচ্ছে ক্ষতিকর তেল। ফুটপাত কিংবা অভিজাত রেস্টুরেন্ট সব জায়গাতেই ক্ষতিকর তেলের ব্যবহার হচ্ছে দেদার। সম্প্রতি রাজশাহীর বেশ কিছু খাবারের দোকানের তেল পরীক্ষা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ। ওলিও টেস্ট কিটের মাধ্যমে রাজশাহী শহর এবং গোদাগাড়ী ও পুঠিয়ায় ৮৭ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ক্ষতিকর তেলে রান্নার প্রমাণ মিলেছে। আর প্রায় ৫৮ শতাংশ খাবার দোকানের রান্নায় যে তেল ব্যবহৃত হচ্ছে, তা খাবার অনুপযোগী। চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদে এমন তেলের খাবার খেলে ক্যানসার, কিডনি, হৃদরোগসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে শরীরে। যার পরিণতিতে হতে পারে মৃত্যুও।
নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ১৬ অক্টোবর ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল জানানোর লক্ষ্যে রাজশাহী বিভাগে একটি ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার (নিরাপদ খাদ্য মোবাইল ল্যাব) চালু করা হয়। যেখানে ভোক্তারা নিজেদের আনা খাদ্য নমুনাও বিনামূল্যে পরীক্ষার সুবিধা পান। তবে এক মাসে কোনো গ্রাহকই স্বপ্রণোদিত হয়ে পরীক্ষা করতে আসেননি। স্বেচ্ছায় নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ নগরী ও জেলার বেশ কিছু স্থানে পরীক্ষা চালায়।
নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানটি জেলার গোদাগাড়ী ও পুঠিয়ায় ১৬টি হোটেল ও রেস্তোরাঁর তেল পরীক্ষা করে। এ ছাড়া নগরীর ২২টি রেস্তোরাঁয় তেল পরীক্ষা করা করা হয়। পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলে ৮৭ ভাগ তেলেই ক্ষতিকর পোলার ম্যাটেরিয়াল পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৫৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ খাবারের দোকানে বেশি ক্ষতিকর তেলের ব্যবহার দেখা গেছে। মূলত এসব দোকানে পোড়া তেল দিয়ে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল। ভ্রাম্যমাণ টিম তাৎক্ষণিক এসব তেল ধ্বংস করে। আর বাকি ২৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ তেল ক্ষতিকর বা ব্যবহারের অনুপযোগী।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের পরীক্ষাগারটি চালু করেছি। আমাদের এখানে সব মিলিয়ে ৩৮ ধরনের টেস্ট করা যাবে। তবে বর্তমানে ২৫টি টেস্ট হচ্ছে। বাকিগুলোর টেস্ট কিট এলেই পরীক্ষা শুরু হবে। এরই মধ্যে আমরা তেল, দুধ, বেকিং সোডাসহ বেশ কিছু পণ্য পরীক্ষা করেছি। এর মধ্যে তেলে সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে টেস্ট করার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর উপাদান পেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি ধ্বংস করে দিচ্ছি। তবে কোনো ধরনের জরিমানা করছি না। প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। মানুষকেও সচেতন করা হচ্ছে, যেন তারা এগুলো না কেনেন। তবে জরিমানার প্রয়োগ না ঘটানো গেলে এটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া খুব সহজ হবে না বলে মনে হয়।’
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মাহবুবুর রহমান খান বাদশা বলেন, ‘পোড়া তেল স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। পোড়া তেল খেলে প্রথমত অ্যাসিডিটি হবে, আলসার হবে। এর কারণে পাকস্থলীতে ক্যানসারও হতে পারে।
এ ছাড়া লিভারের সমস্যা, হজমেরও অসুবিধা হতে পারে। যেহেতু এগুলো কিডনিতে ইনফেকশন হয়, এই তেল বেশি খেলে তাৎক্ষণিক কিডনি ফেল ও কম খেলে ধীরে ধীরে কিডনির সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া মূত্রথলিতে সমস্যা হতে পারে।’
তিনি বলেন, মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে এটি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কাজে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও সচেতন করতে হবে। অনেকেই এটি না বুঝে করে থাকেন। এগুলো বন্ধ না করা গেলে মানবদেহের ক্ষতি বাড়বে।
সাভারে ছাত্র হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ট্রাইবুন্যালে আবেদন
নাগার বিয়ের দিন পাল্টা জবাব দিলেন সামান্থা!