কোরআনে বর্ণিত ইমানিদীপ্ত সাত যুবক

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:২৪ এএম

পবিত্র কোরআনের সুরা কাহাফে ইমানিদীপ্ত সাত যুবকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। যারা এক অত্যাচারী ও মুশরিক বাদশাহর শাসনামলে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিল। এতে তাদের প্রতি বাদশাহর খুব আক্রোশ ছিল। তাই তারা নগর ছেড়ে এক পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপন করে। সেখানে আল্লাহতায়ালা তাদের গভীরভাবে নিদ্রাচ্ছন্ন করে দেন। সেই গুহায় তারা ৩৯০ বছর পর্যন্ত টানা ঘুমে কাটিয়ে দেয়। মহান আল্লাহর কুদরতের কি মহিমা! এত দীর্ঘকাল ঘুমিয়ে থাকা সত্ত্বেও তাদের জীবন সহিহ-সালামতে ছিল। তাদের দেহে বিন্দু পরিমাণ পচন ধরেনি। ৩৯০ বছর পর যখন তাদের চোখ খুলল, তখন তারা ধারণাই করতে পারেনি যে, এতটা দীর্ঘ সময় তারা ঘুমে ছিল। (তাফসিরে তাওজিহুল কোরআন)

ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর যখন তাদের ক্ষুধা অনুভব হলো, তখন তারা তাদের এক সাথি ভাইকে খাদ্য সংগ্রহের জন্য শহরে পাঠাল। ওই শহরটির নাম ছিল দাকসুস। তারা মনে করেছিল, গুহায় ঘুমিয়ে তারা বেশিক্ষণ অবস্থান করেনি। কিন্তু তাদের শত শত বছর পার হয়ে গেছে, তা মোটেও বুঝতে পারেনি। গুহাবাসী লোকটি বাজারে গিয়ে দেখেন যে, না শহরে কোনো জিনিস পূর্বাবস্থায় রয়েছে, না শহরে পরিচিত একটি লোকও রয়েছে। তিনি কাউকে চিনছেন না এবং তাকেও কেউ চিনছে না। তিনি মনে মনে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তিনি মনে মনে বলছিলেন, কাল সন্ধায় এই শহর ছেড়ে গেছি, তারপর হঠাৎ এ কী হলো? চিন্তা করে কিছুই বুঝে পাচ্ছেন না। অবশেষে তিনি ধারণা করলেন যে, তিনি পাগল হয়ে গেছেন। অথবা তার স্বাভাবিক জ্ঞান লোপ পেয়েছে, তাই কিছুই বোধগম্য হচ্ছে না। এ কারণে তিনি ইচ্ছা করলেন যে, কিছু কিনে নিয়ে তাড়াতাড়ি ওই শহর ছেড়ে চলে যাওয়াই উত্তম।

অতঃপর তিনি একটি দোকানে গিয়ে দোকানদারকে মুদ্রা দেন ও আহার্য দ্রব্য চান। দোকানদার ওই মুদ্রা দেখে কঠিন বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং ওটা তার প্রতিবেশী দোকানদারকে দেখতে দিয়ে বলেন, ভাই দেখো তো এ মুদ্রাটি কেমন? এভাবে মুদ্রাটি হাতের পর হাত বদল হতে থাকে। মোট কথা গুহাবাসী লোকটি তামাশার পাত্র হয়ে যান। সবার মুখ দিয়ে এ কথা বের হয় যে, সে কোন প্রাচীন যুগের ধনভাণ্ডার লাভ করেছে এবং তা থেকে এটা নিয়ে এসেছে? তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, সে কোথাকার লোক? তিনি উত্তরে বলেন, আমি এ শহরের লোক। গতকাল সন্ধ্যায় আমি এখান থেকে গিয়েছি। এখানকার বাদশাহ হচ্ছে দাকিয়ানুস। এ কথা শুনে সবাই হেসে উঠল এবং বলল, এ তো এক পাগল লোক। অবশেষে সেখানকার বর্তমান বাদশাহর সামনে তাকে হাজির করা হলো। বাদশাহ তাকে প্রশ্ন করলে তিনি সমস্ত ঘটনা বাদশাহকে জানিয়ে দেন। একদিকে বাদশাহ অপরদিকে জনতা হতভম্ব হলো।

গুহাবাসী যুবকরা তাওহিদে বিশ্বাসী ছিল। তাই কওমের লোকেরা তাদের ধরে তৎকালীন অত্যাচারী বাদশাহর নিকট নিয়ে যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। বাদশাহ এ সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে আল্লাহর একাত্মবাদ ও তাওহিদের বর্ণনা দেন। এমনকি স্বয়ং বাদশাহ এবং তার সভাসদকে দাওয়াত দেন। তারা পরিষ্কারভাবে বলেন, আমাদের রব তিনিই, যিনি আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে মাবুদ বানিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের দ্বারা এটা কখনো হতে পারে না যে, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে আহ্বান করব। তাদের এমন স্পষ্ট বক্তব্য শুনে বাদশাহ রাগান্বিত হন। তাদের মেরে ফেলার ভয় দেখান। অতঃপর তারা সেই কওম ছেড়ে গুহায় আশ্রয় নেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত