বিএনপির সহযোগীদের পদযাত্রা শেষে স্মারকলিপি

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৩ এএম

ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে বিএনপির তিন সংগঠনের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় থেমে যায়। পরে তিন সংগঠনের পক্ষের একটি প্রতিনিধিদল ভারতীয় হাইকমিশনে গিয়ে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সার্বভৌম কোনো দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের শামিল। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অপতথ্য বন্ধ করতে ভারত সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও এতে আশা প্রকাশ করা হয়। এই ইস্যুতে আজ সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

জানা গেছে, ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা, জাতীয় পতাকা অবমাননা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংগঠন তিনটির পক্ষ থেকে ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত লং মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে এই সংবাদ সম্মেলন থেকে। আগামী ১১ ডিসেম্বর এই কর্মসূচি পালিত হবে। এই ইস্যুতে সংগঠনের নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে গত রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করেন।

এর আগে তিন সংগঠনের ঘোষিত পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে গতকাল সকাল ১০টা থেকেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন। কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্টুরেন্ট মোড় থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি পুরো সমাবেশে পরিণত হয়। পদযাত্রায় ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি দেখে ফুটপাত এবং উঁচু বিল্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনকে করতালি দিয়ে পদযাত্রাকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। কর্মসূচিকে ঘিরে কার্যালয়ের সামনে এবং এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরাও ছিলেন।

এ সময় কর্মসূচি উদ্বোধন করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা অবলম্বনহীন নই, আমরাও সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে জানি। দেশকে রক্ষা করার জন্য আকাশ, পাতাল, ভূমি, পানি প্রতিটি জায়গায় আমাদের যে শক্তি আছে, তা দিয়ে দিল্লির আগ্রাসন প্রতিহত করতে প্রত্যেকে প্রস্তুত রয়েছি। ভারত নানা অপপ্রচার, অপতথ্য দিয়ে ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কলকাতার নিউ মার্কেট বন্ধ। কলকাতার ডিপার্টমেন্টাল স্টোর বন্ধ। কলকাতার হাসপাতালে রোগী নেই। ক্লিনিকগুলো বন্ধ। তাতে আপনাদের আনন্দ হতে পারে, কিন্তু আমাদের এখানে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।’

ভারত ভয়ংকর রকমের সাম্প্রদায়িক উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘ঘৃণা দেখানো ছাড়া, ভিন্নধর্মের প্রতি প্রতিহিংসা দেখানো ছাড়া ওদের আর কোনো রাজনীতি নেই। হাসিনা পলাতক, বাংলাদেশ থেকে তাকে চলে যেতে হয়েছে। দিল্লির আশীর্বাদে ১৫ থেকে ১৬ বছর তাকে টিকে থাকতে হয়েছে। উনি ভোট ধ্বংস করেছিলেন। ভোটারদের ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে নির্বাচন শেষ করে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ধ্বংস করে দিয়েছেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারতের জনগণ ভোট দিয়ে ইচ্ছেমতো সরকার পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে যাকে সমর্থন করেন, সেই হাসিনা মানুষকে বন্দি ও ক্রীতদাস করে রেখেছিলেন। তাকে ভারত সমর্থন করে। তার মানে কি আপনারা বাংলাদেশের মানুষকে পছন্দ করেন না? আপনারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে, স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করেন না? তাহলে হাসিনাকে সমর্থন দিয়েছেন কেন? হাসিনাকে ফেরানোর জন্য ভারতের শাসক শ্রেণি যা করছে, এটা পৃথিবীর ইতিহাসে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় আগ্রাসন ছাড়া কিছু নয়।’ তিনি বলেন, ‘হাসিনার জন্য এত মন খারাপ কেন? কারণ, ভারতের সঙ্গে ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান নেই, এমনকি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপও তাদের সঙ্গে নেই। ওদের সঙ্গে কেউ বন্ধুত্ব করতে পারে না। কারণ, ওরা মুখে ধর্মনিরপেক্ষ, সেক্যুলার যাই বলুক, ওরা মনে কট্টর হিন্দুত্ববাদী ছাড়া আর কিছু নেই। ভিসা বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ভারতে যাবে না। আমরা যেসব খাদ্যপণ্য আনতাম চাল, পেঁয়াজ, চিনি, রসুন, আদা তা এখন এ দেশের লোকেরা আরও বেশি প্রচেষ্টা ও শ্রম দিয়ে উৎপাদন করবে। আমাদের ফরেন রিজার্ভ আরও বাড়বে।’

যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘আমরা বন্ধুরাষ্ট্র চাই। প্রভুসুলভ মনোভাব চাই না। এমন মনোভাব আমরা গ্রহণ করব না।’

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘ভারত সহকারী হাইকমিশনে হামলা চালিয়ে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। হাসিনাকে খুশি করতে অবন্ধুসুলভ আচরণ করছে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী বলেন, ‘ভারতে বসে শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র রাজপথে সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানাব।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন প্রমুখ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টন থেকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে প্রতিবাদী পদযাত্রা শুরু হয়। মিছিলের অগ্রভাগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল থাকতে দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, পদযাত্রা রামপুরা ব্রিজের কাছে এলে পুলিশ নেতাকর্মীদের সেখানে আটকে দেয়। নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, মৌচাক ও মালিবাগ হয়ে পদযাত্রা রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত পদযাত্রাটি যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এ সময় এই পথে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রামপুরা ব্রিজের ওপর পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে দুদিকের সড়কেই যানচলাচল বন্ধ ছিল প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা। এতে জনসাধারণকে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে হয়।

রামপুরা ব্রিজের ওপর পুলিশের বাধা পেয়ে তিন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা স্মারকলিপি নিয়ে গাড়িতে করে ভারতীয় হাইকমিশনে যান। বারিধারার ভারতীয় হাইকমিশনের সিকিউরিটি অফিসার ও কাউন্সিলর নারপাত সিংয়ের কাছে সংগঠনের ৬ শীর্ষ নেতা স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের ডিফেন্স অ্যাটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনমেত সিং সাবারওয়াল উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দুনিয়া কাঁপানো ছাত্র-জনতার অভাবনীয় তুমুল আন্দোলনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। ভারত তাকে আশ্রয় দেয়। এরপর ভারতের অতি উগ্রবাদী নেতারা, বিশেষ করে কতিপয় সংবাদমাধ্যম হাসিনাকে আবার পুনর্বাসন ও বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করার জন্য একের পর এক অজ্ঞ-অর্বাচীনের মতো কাজ করে যাচ্ছে। এতে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়, বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের বন্ধুত্ব ছিল শেখ হাসিনার সঙ্গে, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে নয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে উঠেছেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন দলমতের মানুষের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুকুম দিচ্ছেন। যারা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তাদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছেন। ভারতের নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার এই অপচেষ্টা বাংলাদেশের জনগণ ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে না।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বরাবর দেওয়া এই স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ২ ডিসেম্বর আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। নৈতিক পদস্খলনের কারণে ইসকন থেকে বহিষ্কৃত সংগঠনটির সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হাজারো মানুষ যখন রাষ্ট্রীয় মদদ ও প্রশ্রয়ে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলা করছিল, তখন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাপ্ত বিবরণ চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রধান ফটক ভেঙে বিক্ষোভকারীদের প্রাঙ্গণে আক্রমণ করার সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে হামলাকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার খুঁটি ভাঙচুর করে।

এতে বলা হয়, এই ঘটনায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা করে। সহকারী হাইকমিশনের অভ্যন্তরে সম্পত্তির ক্ষতি করে। দুঃখজনকভাবে প্রাঙ্গণ রক্ষার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় না থাকতে দেখা গেছে। এটি কূটনৈতিক নিয়ম ও আন্তর্জাতিক আইনের একটি গুরুতর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিয়েনা কনভেনশনের (১৯৬১) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ন্যক্কারজনক বিস্ময়কর ঘটনার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও ভারত সরকারের নীরবতায় বাংলাদেশের জনগণ হতাশ। বাংলাদেশ পরস্পরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল। দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হবে সমতা, পরস্পরের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস ও সম্মান প্রদর্শনের ওপর।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘সার্বভৌম কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের শামিল। ভারতের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের জনগণের প্রতি অবজ্ঞা স্বরূপ বলে আমরা চাই ভারত সরকার ভারতীয় মিডিয়া আউটলেটগুলোকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার আদর্শ প্রচার করতে পরামর্শ দেবে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, অপতথ্য বন্ধ করতে ভারতীয় সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

আজ সংবাদ সম্মেলন : গতকাল ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ ৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংগঠন তিনটির নেতারা দেশ রূপান্তরকে জানান, পদযাত্রা ও স্মারকলিপির পর একই ইস্যুতে ভারতের আগরতলার এপারে বাংলাদেশের সীমান্ত পর্যন্ত লংমার্চ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি করা হবে ১১ ডিসেম্বর। এর আগে এই ইস্যুতে সংগঠনের নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে গতরাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করে লংমার্চের তারিখ চূড়ান্ত করেন।

পদযাত্রায় নগরবাসী তীব্র যানজটে : সপ্তাহের প্রথম দিন হওয়ায় সড়কে অফিসগামী মানুষের চাপও ছিল অনেক। সকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় জড়ো হতে থাকলে যানজট সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও কাজ করতে দেখা গেছে। নয়াপল্টন থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত মিছিলের সময় এই পথে যানচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে রাস্তায় বের হওয়া লোকজনকে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে দেখা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত