চট্টগ্রামে এবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একদিনের বেশি বিজয় মেলার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেছেন।
সভায় বিজয় মেলার আয়োজন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিরোধের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলার রাউজান উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিজয় মেলা আয়োজন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে মেলা করার প্রয়োজন নেই। রাউজান কলেজ মাঠে মাসব্যাপী বিজয় মেলা ঘিরে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে মারামারি ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশীট হয়েছে। বিজয় মেলা নিয়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক তা আমরা কখনো কামনা করি না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুধুমাত্র এক দিনব্যাপী বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হবে। কোনোভাবেই একদিনের বেশি বিজয় মেলা হবে না এবং আর কোনো মেলার অনুমতি দেওয়া হবে না।
সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) রায়হান উদ্দিন খান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. মোহাম্মদ নওশাদ খান, ডিজি এফআই’র উপ-পরিচালক কাজী রাজীব রুবায়েত, এনএসআই’র যুগ্ম পরিচালক শাহ সুফী নুর নবী, মেট্টো এনএসআই’র উপ-পরিচালক নূর মোহাম্মদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অংগাজাই মারমা (রাউজান), এবিএম মশিউজ্জামান (হাটহাজারী), মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী (ফটিকছড়ি), মু. ইনামুল হাছান (লোহাগাড়া), মাসুমা জান্নাত (কর্ণফুলি), মাহমুদুল হাসান (রাঙ্গুনিয়া), মাহফুজা জেরিন (মিরসরাই), রিগ্যান চাকমা (সন্ধীপ), কেএম রফিকুল ইসলাম (সীতাকুন্ড), আলাউদ্দিন ভূইয়া জনী (পটিয়া),
রাজীব হোসেন (চন্দনাইশ), হিমাদ্রী খীসা (বোয়ালখালী), জেসমিন আক্তার (বাঁশখালী), মিল্টন বিশ্বাস (সাতকানিয়া), তাহমিনা আক্তার (আনোয়ারা), মোহাম্মদ জামশেদ আলম (বাঁশখালী), আনসার-ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট (উপ-পরিচালক) মো. আবু সোলাইমান, কোস্টগার্ড প্রতিনিধি কর্ণেল আবরার, বিজিবির নায়েক সুবেদার আশ্রাফুল আলম, র্যাব-৭ এর সিও পলাশ সাহা, রামগড় ব্যাটালিয়ান ৪৩ বিজিবির প্রতিনিধি সুবেদার মো. মশিউর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হুমায়ুন কবির খোন্দকার,জেলা শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন, বিআরটি’এর সহকারী পরিচালক রায়হানা আক্তার উর্থী, ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক নাসরিন আক্তার, সওজ’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ নিজাম উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ইউসুফ মিয়া, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক রায়হানা আক্তার উর্থী, চিটাগাং চেম্বারের যুগ্ম সচিব নুরুল আবছার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অনিবন্ধিত সিএনজি অটোরিক্সাকে নিবন্ধের আওতায় নিয়ে আসা, রাস্তা দখল করে হাট-বাজার স্থাপন না করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, খুন, ডাকাতি,চাঁদাবাজি, রাহাজানি, নারী ও শিশু নির্যাতন, রেল, নৌ ও সড়ক পথে মাদক পাচার রোধ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, যানজট এবং বন্য হাতির উপদ্রব থেকে জানমাল রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ অনুরোধ জানান।
সভায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, গত নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৬ জন মারা গেছে। তন্মধ্যে ১৩ জন চট্টগ্রাম জেলার ও বাকী ৩ জন অন্যান্য জেলা থেকে এসে চমেক হাসপাতালে চিকিৎিসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। গত জানুয়ারি থেকে চলতি ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৩২ জন। মারা গেছে চট্টগ্রাম জেলার ২৩ জনসহ মোট ৪২ জন।
কমবে রাতের তাপমাত্রা, ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা
চবিতে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
ডেঙ্গুতে ভর্তি রোগী ৯৭ হাজার ছাড়াল