কিশোরগঞ্জে শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া এক ব্যক্তিকে জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে নিহত উল্লেখ করে সাজানো মামলা করে আসামিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় গত ২৯ নভেম্বর করা ওই হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭৬৮ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ১৬৮ জনের। মামলাটির বাদী জেলা শহরের মনিপুরঘাট এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে রাফিউল আলম (২৫)।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিশোরগঞ্জ জেলায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪২টি মামলা হয়েছে। যার অনেক মামলা নিয়েই সমালোচনা চলছে। এসব মামলার ক্ষেত্রে নিয়মনীতি ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ আছে। মামলায় আসামির তালিকায় নাম দেওয়া, না দেওয়া এবং আসামির তালিকায় নাম দেওয়ার পর তা বাদ দেওয়ার নামে বড় অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগও আছে। এসব ঢালাও মামলা নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ ও সমালোচনা করা হচ্ছে।
এসব মামলার মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় গত ২৯ নভেম্বর রাফিউল আলম বাদী হয়ে করা মামলাটি নিয়ে জেলা জুড়ে সমালোচনা হচ্ছে। ওই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুলাই দুপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারী ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে আক্রমণ করে। এ সময় তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে দুলাল রবিদাস নামে এক মুচির বুকে গুলি লাগে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে আসামিদের মধ্যে ২২-২৩ জন তাকে রড দিয়ে পেটায়। পরে স্থানীয় কয়েকজন উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান দুলাল রবিদাস।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুলাল রবিদাস শহরের গৌরাঙ্গবাজার মোড়ে মুচির কাজ করতেন। তবে তিনি ১৮ জুলাই বাজারে যাননি। ছোট ভাই কাঞ্চন রবিদাস জানান, তার বড় ভাই গুলিতে মারা যাননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন। ১৯ জুলাই শ্বাসকষ্টে নিজ বাড়িতে মারা যান। কাঞ্চন রবিদাস বলেন, ‘আমরা শুনেছি, আমার ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে মামলা হয়েছে। মামলার পর আসামিসহ অনেকে আমাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছে। কিন্তু আমরা মামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। বিষয়টি নিয়ে আমরা এখন দুশ্চিন্তায় আছি।’
এ বিষয়ে মামলার বাদী রাফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, কয়েকজনের পরামর্শ নিয়ে মামলাটি করেছেন। সেখানে ১৩০ জনের নাম তিনি দিয়েছিলেন। বাকি ৩৮ জনের নাম দেননি। এর মধ্যে ১৯ জন নিরীহ ব্যক্তি রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মামলার পর কেউ কেউ নাকি আসামিদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিচ্ছে। অথচ তিনি কিছুই জানেন না। প্রকৃতপক্ষে তিনি এখন মামলা করে বেকায়দায় পড়েছেন।
তবে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাদীর দেওয়া এজাহারমতেই মামলার এফআইআর (প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন) হয়েছে। পুলিশ বা অন্য কারও সেখানে নাম দেওয়ার সুযোগ নেই।’
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, অহেতুক নিরপরাধ কাউকে যেন মামলায় জড়ানো না হয়, সে বিষয়ে নেতাদের নির্দেশ দেওয়া আছে। তবু অনেকে তাদের জিজ্ঞেস না করে মামলা করে দিচ্ছেন। কিছু মামলায় ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কাউকে কাউকে আসামি করা হচ্ছে।
