ফুটপাতে শীতের পোশাক কিনতে ভিড় জমেছে

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:৩৫ পিএম

ময়মনসিংহের ত্রিশালে শীতের শুরুতেই নিম্ন আয়ের লোকেরা শীতবস্ত্র কেনার জন্য ফুটপাতে ভিড় জমাচ্ছেন। রাতে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন আয়ের লোকেরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। গত কয়েকদিন ধরে তীব্রতা বাড়ায় শীত থেকে রক্ষা পেতে সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাক কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন সূতিয়া ব্রিজসংলগ্ন রাস্তার ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত রাজমনি ও সানাউল্লাহ  মার্কেটসহ ছোট-বড় দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ছে। ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণে হরেক রকম বাহারি পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। শীতবস্ত্রের চাহিদা বাড়ায় বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক তুলেছেন তারা।

প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফুটপাতের দোকানগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি উচ্চবিত্তরাও রাস্তার পাশের এসব দোকানে ভিড় জমাচ্ছে। বিশেষ করে মৌসুমভিত্তিক দোকানগুলোতে শীতের কাপড় কেনাবেচা চলছে পুরোদমে। শীত কম থাকায় ব্যবসা কম হচ্ছে। সামনের দিনে অনেক ভালো ব্যবসা হবে এমনটাই আশা ফুটপাতে বসা দোকানিদের।

ফুটপাতের দোকানে একটি সোয়াটারের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, বাচ্চাদের কাপড় ৫০ থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত, মাফলার ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সাধ্যের মধ্যে থেকেই পছন্দের শীতের পোশাকটি বেছে নিতে চেষ্টা করছে নিম্নবিত্ত দরিদ্র মানুষরা।

প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই তাদের বিক্রয়ের অবস্থা বেশ ভালোই হয়। গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা থাকায় শীতার্ত মানুষ প্রচণ্ড শীত থেকে রক্ষা পেতে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভিড় জমাচ্ছেন বড় শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

ফুটপাতের দোকানদার কাজল মল্লা বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছি। শীত বেশি পড়লে ব্যবসা অনেক ভালো হয় এবং শীত কম হলে বেচাকেনা কম হয়। বড়দের জ্যাকেট, সোয়েটার, কোট, বাচ্চাদের কাপড় পাওয়া যায়, সেগুলোর দাম তুলনামূলক একটু কম হয়। কোনো পোশাকের মূল্য নির্দিষ্ট করা থাকে না। তবে দর কষাকষি ছাড়া পছন্দের পোশাক ক্রেতাদের কেনা সম্ভব হয় না। সব পোশাকের দাম একটু বেশি করে চাওয়া হয়। যাতে বিক্রেতারা তাদের লাভ পুষিয়ে নিতে পারেন।’

অন্যদিকে বাজার রোড সোনালী ব্যাংকের সামনের ফুটপাতের শীতবস্ত্র বিক্রেতা করিম মিয়া বলেন, ‘সব বয়সী মানুষের পোশাক বিক্রয় হচ্ছে, এসব ফুটপাতগুলোতে। গার্মেন্টস আইটেমের চেয়ে পুরাতন শীতবস্ত্র বিক্রি করে বেশি লাভ হয়। ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে আমাদের লাভ-লোকসান। কেননা আমরা এক একটি কাপড়ের গাইট কিনি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়, সেই বিদেশি গাইটগুলো থেকে কখনো ভালো কাপড় বের হয় কখনো আবার খারাপ।’

 

ফুটপাতে শীতের পোশাক কিনতে আসা ক্রেতা হানিফ বলেন, ‘শীত এলে কেনাকাটার ধুম বেড়ে যায়। ২৫০ টাকা দিয়ে আমার জন্য জ্যাকেট নিয়েছি এবং ৩৭০ টাকা দিয়ে আমার দুই বাচ্চার জন্য শীতের পোশাক নিয়েছি। দামের দিক দিয়েও মোটামুটি সস্তা। তবে দর দাম করেই পোশাক কিনছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত