সারা দেশের মতো গাইবান্ধায় জেগে বসেছে শীত। হিম বাতাস আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে জনপদ। ভোরের আলো ফোটার আগেই চারদিক ঝাপসা হয়ে ওঠে। সারাদিন সূর্য্যের দেখা নেই। দূরের পথ তো বটেই, সামনের মানুষটিকেও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না।
শীতের তীব্রতায় খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে বিপাকে। একই সাথে শিশু ও রয়স্ক লোকজন বেশি ঝুকিতে রয়েছে। পবাদিপশুও শীতে জবুথবু।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধায় সকাল ৯টায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হিমেল বাতাসে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকদের অনেকেই কাজ করতে পারছেন না। শীতের তীব্রতায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ শীতজনিত রোগ বাড়ছে। সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শীতজনিত রোগীর ভিড় লক্ষ করা গেছে।
আরও দেখা যায়, লোকজন আগুন জ্বালিয়ে শীত নিভারণের চেষ্টা করছে। বিকেল হতেই চারদিকে কুয়াশা নিমে আসে। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল থেকে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। মহাসড়কে ধীরগতিতে চলছে বাস ও ট্রাক। দিনের বেলায় চালকরা যানবাহনের হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। ভোরবেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই কুয়াশা থাকে। সকালবেলায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রভাব আরও প্রকট। কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর কুয়াশার কারণে সকালের কাজকর্ম শুরু করতে দেরি হচ্ছে। অনেক পরিবার আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। দরিদ্র মানুষজনের জন্য শীতবস্ত্রের সংকটও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী গ্রামের রিকশা চালক সাইদুল মিয়া (৩৫) বলেন, গত পাঁচদিন থাকে এরকম কুয়াশা সাথে বাতাস। খুব ঠান্ডা লাগে। কিন্তু রিকশা না চালালে পেটে তো ভাত যাবে না। শীতে খুব কষ্টে আছি।
একই উপজেলার তিনগাছতলা গ্রামের কৃষক জাকিরুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে অনেকের বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ঠান্ডার কারণে হাত-পা বের করা যায় না। গত বছরের চেয়ে এবার শীত বেশি।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এমও) আসিফ মিয়া বলেন, এ সপ্তাহে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ঠান্ডার কারণে সর্দি,জ্বর, কাসি হতে পারে। গরম কাপড় ব্যবজার করতে হবে। ঠান্ডা যাতে না লাগে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী কয়েকদিন এমন শীতল আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এ সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
