৭ বছর পর রাজনৈতিক মাঠে আসছেন খালেদা জিয়া

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৪ এএম

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী ২১ ডিসেম্বর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছর পর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘তিনি এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ গত রাতে (শনিবার) তাদের দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। তারা নেত্রীকে মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান।’

ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং সশরীরে সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লন্ডন থেকে সমাবেশে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন।’

২১ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সমাবেশ হবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। এর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ওই সমাবেশের আয়োজন করছে। তিনি জানান, ‘সারা দেশ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকায় আসবেন এবং ২১ ডিসেম্বরের সমাবেশে যোগ দেবেন।’

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের এক সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। দুর্নীতির দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়। সেই থেকে ৬ মাস পরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছিল সরকার। এরপর থেকেই তিনি গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় আছেন। এর মধ্যে গত ২৯ এপ্রিল ৬ষ্ঠবারের মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের পতন হয় গত ৫ আগস্ট। এর পরদিনই ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়া হয়। সেদিন তার মুক্তির ব্যাপারে বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়া এক যুগ পর গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এখন ৭ বছর পর ২১ ডিসেম্বর তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে, অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের মাধ্যমে দীর্ঘ ৭ বছর পর খালেদা জিয়া মুক্ত পরিবেশে জনসমক্ষে বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আসছেন।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপির কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলন করে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে ১৯৯১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। একইভাবে ২০০১ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন। এভাবে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি।

খালেদা জিয়ার প্রকৃত নাম খালেদা খানম। ডাক নাম পুতুল। ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জলপাইগুড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ভাইয়েরা সবার ছোট। তার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিয়ে হয়। জিয়াউর রহমান তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন ছিলেন। ডিএফআই-এর অফিসার হিসেবে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। খালেদা জিয়ার দুই ছেলের মধ্যে বড় তারেক রহমান। বর্তমানে তিনি লন্ডনে আছেন। আর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত