বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় পিটিয়ে হত্যার হুমকি

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:৩৬ এএম

ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে আহত এক যুবক ও তার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়া এলাকার অন্যদের গাছে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের কল্যাণপুটি গ্রামের তরিকুল ইসলাম সুজন (৩৫) এবং তার পরিবারের সদস্যরা গত রবিবার জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্ল্যা ও পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিলের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কল্যাণপুটি গ্রামের আবু জাফর মোল্যার ছেলে তরিকুল ইসলাম সুজন (৩৫) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকার মিরপুরে পুলিশের গুলিতে আহত হন। সুজনসহ ওই গ্রামের কয়েকজন ছাত্র ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নেন। সুজনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সুজন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে গত ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুরের আলোক হাসপাতালের সামনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। তাকে বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীরে এখনো গুলি রয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরবার অভিযোগে সুজন উল্লেখ করেন, গত ১৭ অক্টোবর বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম তার (সুজন) গ্রামের বাড়িতে যান এবং বাড়ির উঠানে সভা করেন। সেই সভার একটি ভিডিও ক্লিপ সুজন তার ফেসবুকে পোস্ট করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু তাকে ফোন করেন। ফেনে তিনি (চেয়ারম্যান লাবলু) সুজনের সঙ্গে অনেক কড়া ভাষায় কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘তুই বড় নেতা হয়ে গেছিস। তোর কত বড় সাহস তুই আমার নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর এলাকায় শামা ওবায়েদকে দিয়ে মিটিং করাস। মনে রাখিস, যারা যারা নগরকান্দা-সালথা এলাকা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে হয়েছে। সময় আসুক তোদের সবাইকে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হবে।’

এ বিষয়ে গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম মোল্যা বলেন, এমন একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত