পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে বদল আনা দরকার বলে মনে করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত রবিবার দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’স ওয়ার্ল্ড’ নামের আন্তর্জাতিক নীতিবিষয়ক একটি নতুন সাময়িকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর এমন ইঙ্গিত দেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ভাষ্যকে বদলে দেওয়ার চেষ্টাকে নরেন্দ্র মোদি সরকার যে অগ্রাধিকার দেয়, এমন ইঙ্গিত বারবার মিলেছে। গত শনিবারও প্রধানমন্ত্রী সংবিধান নিয়ে নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিশানা করেছেন। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নেহরুর উন্নয়নের মডেল তথা বিদেশনীতি নিয়েই প্রশ্ন তুললেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নেহরুর ‘উন্নয়ন মডেল’ আসলে একটি ‘নেহরু বিদেশ নীতি’ নির্মাণ করেছিল। যা সংশোধন করার কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। তার কথায়, ঘরের পাশাপাশি, বিদেশের মাটিতেও নেহরুর সেই উন্নয়ন মডেল সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন তারা।
জয়শঙ্কর বলেন, এই মডেল এবং সেই সম্পর্কে যে ভাষ্যটি গড়ে তোলা হয়েছিল, তা আমাদের রাজনীতি, আমলাতন্ত্র এবং অবশ্যই পরিকল্পনা, বিচারব্যবস্থা, নাগরিক বিষয়সমূহ এবং প্রায় সমস্ত শিক্ষাকেই প্রভাবিত করেছে।
তিনি বলেন, আমরা যখন পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনার কথা বলি, যখন নেহরু-পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি গঠনের কথা হয়, তখন এসবকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা ঠিক হবে না।’
বিশ্বমঞ্চে ভারত ক্রমশ ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী’ দেশে পরিণত হচ্ছে মন্তব্য করে জয়শঙ্কর বলেন, আগামী বছরগুলোতে বিদেশে ভারতের প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা ‘নাটকীয়ভাবে বাড়বে’। ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা গতিশীলতার বিস্ফোরণ দেখতে যাচ্ছি’ যুক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বড় করে ভাবা, দীর্ঘ মেয়াদে ভাবা এবং স্মার্ট করে ভাবাই ভবিষ্যতের পররাষ্ট্রনীতি হবে বলে আমার ধারণা।’
জাতীয় উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এমন পররাষ্ট্রনীতির দিকে ভারত এগোচ্ছে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে আমরা আত্মরক্ষামূলক গুটিসুটি মেরে থাকা (পররাষ্ট্রনীতি) অনুসরণ করতাম। সেই যুগ আমরা নিঃসন্দেহে পেছনে ফেলে এসেছি।’
