গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখলের চেষ্টা

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:২৪ এএম

সাভারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডা. নাজিম উদ্দিন ও তার সহযোগীরা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালালে হাসপাতালের কর্মী, চিকিৎসক এবং রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল সন্ত্রাসী প্রথমে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনের প্রধান গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ছাত্রদের বের হয়ে যেতে বলে। এরপর তারা সেখানকার বিভিন্ন কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। সেখানে কর্মরত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মী আয়না ও শিরিনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বের করে দেয়। পরে তারা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূল ভবনের দিকে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালটির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডা. নাজিমের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান গেট দিয়ে ঢোকে। এ সময় তারা প্রতিটি গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। সন্ত্রাসীরা হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক আব্দুল হান্নান ও হিসাবরক্ষক শুভ বসাককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তারা গণমুদ্রণ অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা ইমতিয়াজকে মারধর করে। এরপর ডা. নাজিম তার লোকজন নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এরপর সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ডেকে এনে এখন থেকে তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সব দায়িত্ব পালন করার ঘোষণা দেন। আগের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলামকে বাদ দিয়ে ডা. উজ্জ্বল হাসানকে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেন। এভাবে ঘণ্টাখানেক সেখানে অবস্থান করেন ডা. নাজিম উদ্দিন ও তার লোকজন।’

এদিকে ডা. নাজিম উদ্দিন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র  দখল করে নিয়েছেন এ খবর ট্রাস্টি বোর্ডের অন্য সদস্যরা জানার পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলা ও মারধরের অভিযোগে ৫ জনকে আটক করে। অবস্থা বেগতিক দেখে  ডা. নাজিম ও তার লোকজন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ত্যাগ করেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘ডা. নাজিম উদ্দিন সকালে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে আমাদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করায় চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনায় আমাদের রোগী ও চিকিৎসকরা ভীতসন্ত্রস্ত। বর্তমানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পুলিশের পাহারায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হাসপাতালের কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।’

তবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি। আমি কেন আমার প্রতিষ্ঠান দখল করতে যাব। আমি সকালে আমার লোকজন নিয়ে মিটিং করতে গিয়েছিলাম, বরং তারাই আমাদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেছে।’

আশুলিয়া থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘ট্রাস্টি বোর্ডের দুপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে দখল পাল্টা দখলের অভিযোগ রয়েছে। কোন ট্রাস্টি বৈধ আর কোন ট্রাস্টি অবৈধ তা আইনের মাধ্যমে সমাধান করতে বলা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ পাহারায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত