নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অস্পষ্ট : ফখরুল

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:২০ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৬-এর প্রথমার্ধে নির্বাচন করার কথা বলেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার বক্তব্য একেবারে অস্পষ্ট। সুনির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ নেই। আবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেছেন, ২০২৬ সালের জুনের কথা, যা পরস্পরবিরোধী।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে গত বুধবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, যেহেতু নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়ে গেছে, সেহেতু নির্বাচন বিলম্বের প্রয়োজন নেই। নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব।’

নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জনগণ নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রত্যাশা করে। সভা মনে করে, সব দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগীয় স্বীকৃতি মিলল, নির্বাচিত সংসদই সংবিধান সংশোধন করার এখতিয়ার রাখে।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক যিনি সংবিধানকে অবৈধভাবে সংশোধন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি করবেন কি না, প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সময় যখন আসবে তাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার, তখন নিশ্চয় নিয়ে আসা হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

এর আগে বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গতকাল সকালে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভা মনে করে, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য ও প্রেস সচিবের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আরও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। জনগণ এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রত্যাশা করে। সভা মনে করে, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময় রাজনৈতিক দল ও অন্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।

এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য ওই সংশোধনীতে মোট ৫৫টি দফায় সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে প্রস্তাবনায় এবং তফসিলে ব্যাপক পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ও বিয়োজন করার মধ্য দিয়ে সংবিধানকে একদলীয় শাসন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের প্রধানতম হাতিয়ারে পরিণত করা হয়। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে গণতন্ত্রকে বেহাত করে দেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় আদালত উন্মুক্ত আদালতে রায়ের ঘোষণার সময়ে কিছু কিছু বিষয়ে মন্তব্য, পর্যবেক্ষণসহ ওই সংশোধনীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং কিছু অংশ সংরক্ষণ করেছে ও অধিকাংশ আগামী সংসদের বিবেচনার জন্য ছেড়ে দিয়েছে, কিন্তু রিট আবেদনকারীরা, সংযুক্ত হওয়া রাজনৈতিক দলগুলো এবং অন্য অংশীজন এবং দেশের আপামর জনসাধারণ আদালতের কাছে আরও বেশি কিছু সিদ্ধান্ত আশা করেছিল। রিট আবেদনকারীরা পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার প্রার্থনা করেছিলেন। আমরা এই রায়কে অ্যাপ্রিশিয়েট করি। আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে যে, নির্বাচিত পরবর্তী সংসদই সংবিধান সংশোধনীর একমাত্র উপযুক্ত ফোরাম।

এতে আরও বলা হয়, স্থায়ী কমিটির সভায় অবিলম্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। লিয়াজোঁ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত