জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকার রবিউল ইসলাম জীবন। সম্প্রতি তার লেখা ইমরান-পড়শির গাওয়া ‘কথা একটাই’ গান ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে এক নম্বর অবস্থান দখল করে। এই গান, গানের বাজার, গান লেখা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে শীর্ষ সারির এই গীতিকারের সঙ্গে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন
‘কথা একটাই’ গানটি নিয়ে বলুন, এটার সাড়া কেমন?
ভাবনার চেয়েও বেশি রেসপন্স পাচ্ছি। অনেকেই ভালোলাগার কথা জানিয়ে মেসেজ দিচ্ছেন, কল করছেন। কেউ গানটির ভিডিও শেয়ার করে, কেউ রিলস বানিয়ে, কেউবা মন্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করছেন। সবার এমন ভালোবাসার কারণেই গানটি এক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশে ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছে।
গানটির গল্প নিয়ে যদি বলতেন
একজন মানুষ যখন তুমুল প্রেমে পড়েন, তখন তার মনে থাকে একটাই চাওয়া, সেই মানুষটাকে সারা জীবনের জন্য নিজের করে পাওয়া। গানটিতে প্রেমের এই আকাক্সক্ষার কথাই তুলে ধরতে চেয়েছি। হুক লাইন ‘এ মনের কথা একটাই, তোমাকে আমার করে চাই’।
আপনার অধিকাংশ গানের উপজীব্য কী?
গান লেখার ক্ষেত্রে আমি আশপাশ, সময়, মানুষের মন পড়ার চেষ্টা করছি। একটা গান লেখা পর্যন্তই কন্ট্রোলটা নিজের হাতে থাকে। প্রকাশের পর এটি মানুষের কাছে চলে যায়। মানুষই এটাকে বহন করে। তাই যে কথাগুলো মানুষের মনের কথা, কিংবা যে কথাগুলো মানুষ শুনতে চান, যে কথার চিত্রকল্পে মানুষ নিজেকে দেখতে পান সে কথাই আমি গানে তুলে আনার চেষ্টা করি।
গান লেখার জন্য কাকে অনুসরণ করেন, অনুপ্রেরণা কে, কার লেখা পড়েন?
সময়ের প্রশংসিত, জনপ্রিয় গানগুলো শুনি। একদম নতুন কারও, নতুন ভাবনার গান হলে বোঝার চেষ্টা করি। অনেক সময় কারও একটি কথা, কারও পোস্ট, কোনো একটি সিনেমা বা নাটকের ডায়লগও আমার লেখার ভাবনা জোগায়। গান লেখার শুরুর দিকে অনেকের কবিতা পড়তাম। বিশেষ করে কবি মহাদেব সাহা। আমার বাসায় সবচেয়ে বেশি বই তার। প্রতি বইমেলার তার নতুন বইয়ের খোঁজ করি। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি তার বাসায়ও গিয়েছি। তিনি আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন।
নতুন যারা গান লিখতে চায়, তারা কীভাবে শুরু করতে পারে?
এটা আসলে ভেতর থেকে আসতে হবে। কারও মনের ভেতর যদি এটা চলতে থাকে, আগ্রহটা প্রখরভাবে জাগতে থাকে, পরিবার, বন্ধু, চারপাশ থেকে সমর্থন পায় তবে এগিয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের প্রচুর গান শুনতে হবে। গানের কথা আলাদাভাবে পড়তে হবে, বোঝার চেষ্টা করতে হবে। গানের ছন্দ, অন্ত্যমিল কিংবা প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো জানার জন্য এক ধরনের পাগলামি লাগবে। প্রকাশিত গানের ‘গঠন’ থেকেই সবচেয়ে বেশি ধারণা পাওয়া যাবে।
গান লেখার বাইরে আপনার জগৎ
কী নিয়ে?
আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে। আমার মেয়ে মাইজাহ ইসলাম রিদা তাকে ঘিরে আমার সুন্দর সময় কাটে। আমার জীবনকে পূর্ণতা দিয়েছে আমার মেয়ে। এছাড়া আমি প্রচুর খেলাধুলা পাগল মানুষ। বাংলাদেশের ফুটবল-ক্রিকেট নিয়মিত দেখি। খেলা নিয়ে আমার অনেক গানও আছে।
আপনার লেখা নিজের পছন্দের ১০টা গান
এত এত গানের মধ্য থেকে এটা খুব কঠিন কাজ। তারপরও সিনেমায় যদি বলি ‘আমার মতন কে আছো বলো’, ‘আসবে আমার দিন’, ‘রাতভর’, ‘সত্যি নাকি ভুল’, ‘ধীরে ধীরে’,‘মন তোকে ছাড়া’, ‘কোনো মানে নেই তো’, ‘আসল ছাইড়া নকল রঙে’, ‘কেন আজকাল’, ‘বলে দাও’। ভিডিওতে ‘জনম জনম’, ‘কেউ না জানুক’, ‘দেয়ালে দেয়ালে’, ‘মানে না মন’, ‘জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ’, ‘একমুঠো স্বপ্ন’, ‘চোখেরই পলকে’, ‘কেন বারেবারে’, ‘ফিরব না আজ বাড়ি’, ‘আজ বৃষ্টির দিন’।
