চট্টগ্রামে সিভিল এভিয়েশন কর্মচারী মো. ওসমান সিকদার (৪০) হত্যায় অংশ নেওয়া চারজন দশদিনেও অধরা। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মো. রাসেল নামে এক যুবক হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করলেও ঘটনার পর তিনি দুবাই পালিয়ে গেছেন বলে ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ওসমান হত্যাকাণ্ডে সিভিল এভিয়েশনের দুই কর্মচারীসহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া বাকি তিনজনকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
ওসমান খুনের ঘটনায় তার বড়ভাই এমরান সিকদার গত ১২ ডিসেম্বর মো. রাসেল, সিভিল এভিয়েশনের কর্মচারী ইব্রাহিম খলিল ও বাদল মজুমদারকে আসামি করে নগরের পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার আগেই ইব্রাহিম খলিল, বাদল মজুমদার এবং আরিফ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এদিকে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার চারদিন পরেই ওসমান হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পতেঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) ফরিদুল আলম চলে গেছেন ছুটিতে। ফলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত থমকে আছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওসমান হত্যা মামলার গ্রেপ্তারের পরই আসামি সিভিল এভিয়েশন কর্মচারী ইব্রাহিম খলিল হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুই আসামি বাদল মজুমদার ও আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাই এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মো. তারেক আজিজ।
ওসমান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে পতেঙ্গা থানার ওসি শওকতুল ইসলাম বলেন, ‘সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। ওসমান হত্যা মামলার নথি দেখিনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কে তা-ও জানি না।’ এ সময় ওসি তদন্তই ওসমান হত্যা মামলার আইও বলে এই প্রতিবেদক জানালে ওসি শওকতুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছুটিতে আছেন। কাল সোমবার জয়েন করবেন।’
এদিকে পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত মামলার প্রধান আসামি রাসেলের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর স্থানীয় পাসপোর্ট অফিসে যাচাই করে দেশ রূপান্তর। সেখানকার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে উক্ত এনআইডি দিয়ে রাসেল পাসপোর্ট ইস্যু করায়নি। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, প্রধান আসামি রাসেল আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য। সম্ভবত তিনি (রাসেল) একাধিক এনআইডি ব্যবহার করেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে যে গাড়ি ব্যবহার করেছেন সেটির রেজিস্ট্রেশন নম্বরও ভুয়া বলে বিআরটিএ সূত্র দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছে।
১১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের ‘চৈতালি’ নামের সরকারি কোয়ার্টারের প্রধান ফটক (জাপানি গেইট) দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঢুকে রাসেলসহ চারজন। ওসমানের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধরের একপর্যায়ে মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত দিয়ে খুন করা হয়। ১০ থেকে ১২ মিনিটের ব্যবধানে হত্যা করেন তারা। এরপর ওসামানের লাশ গাড়িতে তুলে বিমানবন্দরের অদূরে চরপাড়া আউটার রিং রোডের পাশে ফেলে দেয় খুনিরা।
পুলিশ জানায়, ৩৭ হাজার সৌদি রিয়াল পাচার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ১১ ডিসেম্বর দিবাগত আড়াইটার দিকে খুন করা হয় সিভিল এভিয়েশন কর্মচারী ওসমান সিকদারকে। বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ১১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে একটি প্রাইভেট কার (স্টেশন ওয়াগন) নিয়ে আসে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বিমানবন্দর কর্মচারীদের সরকারি কোয়ার্টারে ঢোকার প্রধান ফটকে (জাপানি গেইট) ওই প্রাইভেট কারটি আটকান কর্তব্যরত এক আনসার সদস্য। এ সময় জাপানি গেইট থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ অদূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সিভিল এভিয়েশনের কর্মচারী (ইলেকট্রিশিয়ান) ইব্রাহিম খলিল তিনি (খলিল) দূর থেকে গেইটে দায়িত্বরত আনসার সদস্যকে দুর্বৃত্তদের বহন করা কারটি কোয়ার্টারে ঢুকতে দেওয়ার জন্য হাতের ইশারা দেন। গাড়িটি কোয়ার্টারে ঢোকার ১৫ থেকে ১৭ মিনিটের মধ্যে জাপানি গেট ত্যাগ করে। এ সময় ইব্রাহিম খলিল নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও ধরা পড়ে যান সিসিটিভি ক্যামেরায়।
মশা নিয়ন্ত্রণে মেয়র শাহাদাতের জিরো টলারেন্স ঘোষণা
আগামী নির্বাচনে আ.লীগ কি সত্যিই অংশ নিতে পারবে?
দাবি মানতে সরকারকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিল ইনকিলাব মঞ্চ