গাজীপুরের শ্রীপুরে বোতাম তৈরির এক কারখানায় কেমিক্যালের ড্রাম বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও সন্ধ্যায় আরও একজনের মরেদহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুই। নিহত দুজনের একজন রাজমিস্ত্রী অপরজন রং মিস্ত্রি বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করে। তবে এখনো নিহতদের নাম পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। এ সময় আরও অন্তত ১০ শ্রমিক আহত হয়েছে।
আজ রোববার দুপুর পৌঁনে দুইটার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ভাংনাহাটি মোল্লাপাড়া এলাকায় মেঘনা গ্রুপের এম এন্ড ইউ ট্রিমস বোতাম তৈরির কারখানায় এ আগুনের ঘটনা ঘটে। বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর পর ডাম্পিং কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকরা জানান,দুপুরের পর বিকট শব্দে বোতাম তৈরি করার কারখানার পশ্চিমপাশে একটি গোডাউনে আগুন ধরে যায়। এরপর দফায় দফায় বিকট শব্দ হতে থাকে। কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম আগুনের তাপে বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন কেমিক্যালের গোদামে ছড়িয়ে পড়ে। মুর্হুতের মধ্যে চারপাশ কালো ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে অন্ধকার হয়ে পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশে রাজমিস্ত্রীরা দেয়াল নির্মাণের কাজ করছিল। পাশে রং মিস্ত্রীও কাজ করছিল।
কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম বিস্ফোরণ ঘটলে একজন রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়। পরে লাশ উদ্ধার করা হয়। এ দিকে সন্ধ্যার আগে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ নিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাদের দাবি এ সময় আরও অনেক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে আরও বেশ কজন মারা যেতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এ কারখানায় তিন শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। বোতাম তৈরি হয় বলে বেশি শ্রমিক দরকার হয় না। এ কারখানার পশ্চিম পাশে একটি কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে। সেখানে নানা জাতের দাহ্য পদার্থ মিশ্রিত কেমিক্যাল মজুদ করা আছে। বেশ কিছু কেমিক্যাল পাশাপাশি রাখলে যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ঠিক তেমন কিছু কেমিক্যাল পাশাপাশি থাকায় এমনটি হতে পারে।
কারখানার ফায়ার এন্ড সেফটি অফিসার তৌহিদুজ্জামন বলেন, কারখানার পশ্চিম অংশে আগুনের সূত্রপাত। সেখানে গোদাম ঘর ও কেমিক্যাল রাখা ছিল। শুরুতে আমরা নিজস্বভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করি। অল্প সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস এসে কাজ শুরু করেন। সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মাহমুদ হাসান জানান,কারখানায় আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের কর্মীরা। এরপর খবর পেয়ে আরও পাঁচটিসহ সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক মো. আল মামুন জানান, একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা গেছে। নিহত ব্যক্তি একজন পুরুষ। তার শরীর পুড়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার আগে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আগুনে সূত্রপাত এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কেমিক্যাল গোডাউনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারখানায় আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় পাশের (কারখানার বাহিরে) একটি পুকুর থেকে পানি ব্যবহার করা হয়েছে আগুন নেভানোর কাজে। বেলা সাড়ে ৪ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ডাম্পিং কাজ শুরু করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করতে সময় লাগবে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টর সজিব আহাম্মেদ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন। তবে তিনি গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দেননি।
রাবিতে ছাত্রলীগের ২৫ নেতাকর্মীসহ ৩২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
মানুষের অভিপ্রায় জানতে সবার আগে গণসংলাপ ডাকুন
গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষিত তরুণদের পুলিশে অন্তর্ভুক্তির দাবি
ইউক্রেনের আরও দুই গ্রাম দখলে নিল রাশিয়া