দেশের অন্যান্য হাসপাতালের মতো ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা মাসিক ভাতা দ্বিগুণের দাবিতে দ্বিতীয়দিন কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের দাবি, মাসিক ভাতা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা।
এদিকে তাদের কর্মবিরতির ফলে চিকিৎসক সংকটে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। ফলে অবহেলায় চিকিৎসাধীন রোগীদের মৃত্যুর অভিযোগ উঠছে। রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। রবিবার (২২ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে ঢামেকের জরুরি বিভাগের দ্বিতীয় তলায় এ হাতাহাতি হয়। এতে এক চিকিৎসকের মামলা দায়েরের পর শম্পা আক্তার (৩৯) নামে এক রোগীর স্বজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার এসআই মাহমুদ হাসান বলেন, ‘এক চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদেরর হাতাহাতি হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ডা. মানার হাফিজ মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন। এতে অভিযুক্ত শম্পাকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
গত কয়েক দিন ধরে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট। এ কারণে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগীর স্বজনরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব রোগীর স্বজনরা বলেন, ‘গত দুইদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। পরে জানতে পেরেছি কিছু চিকিৎসক বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছেন। তারা বর্তমানে কর্মবিরতিতে আছেন।’
এর আগে গত ৩১ আগস্ট অবহেলায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে অভিযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। হামলায় নিউরোসার্জারি বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসক আহত হন।
রবিবার রাতে মোমেনা বেগম (৪০) নামে যে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে তার বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার মোজাখালী গ্রামে। তার মেয়ে হাফিজা আক্তার থাকেন রাজধানীর আফতাব নগর এলাকায়।
ঘটনার বিষয়ে হাফিজা আক্তার বলেন, ‘আমার মা স্ট্রোক করায় গত ২১ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকা মেডিকেলের দ্বিতীয় তলার ২০০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, মায়ের অবস্থা ভালো না, আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় আইসিইউ খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। ভর্তির পর আমার মা বেড না পেয়ে ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অক্সিজেন সাপোর্টও পাচ্ছিলেন না।’
গত রবিবার সারাদিন কোনো চিকিৎসক রোগীর কাছে আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেদিন হাসপাতালে ছিল আমার খালা শম্পা ও খালু নাজির হোসেন। রাতে আমি বাসায় ছিলাম। ১০টার দিকে খালা ফোন করে জানান— মায়ের অবস্থা ভালো না। এটি শুনে আমি দ্রুত হাসপাতালে আসি। এরপর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মানার হাফিজ আসেন ২০০ ওয়ার্ডে রোগীর কাছে। চিকিৎসক রোগী দেখে জানান— আমার মা আর নেই।’
হাফিজা বলেন, মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি বলার পর চিকিৎসক চলে যাওয়ার সময় আমার খালা শম্পা বেগম ওই চিকিৎসকের হাত ধরে টান দিয়ে বলেন— সারাদিন আমার বোনকে দেখতে আসেনি কোনো চিকিৎসক। তবে চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলা হয়নি। তখন চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করতে থাকে। এসময় দায়িত্বরত আনসাররা জড়ো হয়ে যায়। তখন বারবার চিকিৎসকের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়। এসময় পাশের বেডের একটি ছেলে চিকিৎসকের হাত ধরে ক্ষমা করে দিতে বললে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে পরেন। তবে ওই ছেলেকে আমি চিনি না। পরে আমার খালাকে ধরে পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যায়।’
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ‘গতরাতে হাসপাতালে রোগী মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে এক চিকিৎসকের গায়ে হাত দিয়েছে রোগীর স্বজনরা। এই ঘটনায় রোগীর স্বজন শম্পা বেগম নামে একজনকে আটক করে শাহবাগ থানায় দেওয়া হয়েছে।’
বিয়েতে ৬ হাজার কোটি টাকা খরচ, যা বললেন জেফ বেজোস
চাঁদপুরে জাহাজে ৫ রক্তাক্ত লাশ, হাসপাতালে আরও ২ জনের মৃত্যু
পদ্মা সেতু হয়ে বেনাপোল-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু কাল
সাবেক হুইপ সামশুল ও তার পরিবারের ৬ সদস্যের ব্যাংক হিসাব তলব