পারকি সৈকতে ভেসে এলো ৭ মৃত কচ্ছপ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৫৪ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকতে ভেসে এলো সাতটি মৃত কচ্ছপ। অলিভ রিডলি বা জলপাই রঙের এসব সামুদ্রিক কচ্ছপ ডিম পাড়তে সৈকতের বালিয়াড়িতে আসার পথে মারা পড়েছে বলে ধারণা করছেন সমুদ্রবিজ্ঞানীরা। কচ্ছপগুলোর এক একটির ওজন আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ কেজি হবে এমনটাই ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

এ দিকে স্থানীয়রা মনে করেন, অতীতে সিইউএফএল সার কারখানার বর্জ্য মেশানো দূষিত পানির কারণে একাধিকবার গরু-মহিষের মৃত্যু হয়েছে। হয়তো এ কারণে এসব কচ্ছপের মৃত্যু হতে পারে। না হয় অতীতে এত কচ্ছপের একত্রে মৃত্যু হয়নি। তবে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন,‘কারখানা বিগত সময়ে ৮ মাস বন্ধ ছিল। তাছাড়া কারখানার বর্জ্য কোনোভাবে সাগরে যাওয়ার সুযোগ নাই।’

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কর্ণফুলী টানেল রিসোর্টের পেছনে দুটি, এক কিলোমিটার দূরে লুসাই পার্কের সামনে আরও তিনটি কচ্ছপের মরদেহ পড়ে রয়েছে। যেগুলোর প্রায় পচন ধরেছে। এর আগে আরওা দুইটি কচ্ছপ মাটিতে পুঁতে ফেলেছে সৈকতের ব্যবসায়ীরা। এখনো পর্যন্ত এসব মৃত কচ্ছপের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন পর্যটকরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সমরঞ্জন বড়ুয়া বলেন, পারকি সৈকতে এমন ঘটনা সচরাচর আর ঘটেনি। সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃত্যুর বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে এটার পর্যবেক্ষণ করলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজনন মৌসুম জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য্য বলেন, জলপাই রঙা সাগর কাছিম বা পান্না কাছিম এই প্রজাতির কচ্ছপ বাংলাদেশে বেশি দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, জেলেদের জালে বা অন্য কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কচ্ছপগুলো মারা পড়ছে। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিসোর্চ সেন্টারের গবেষক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, এতগুলো কচ্ছপ এক সাথে মৃত্যু হওয়া এটা উদ্বেগের কারণ। বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে কচ্ছপগুলো মারা যাওয়ার। তবে মনে হচ্ছে জাহাজ থেকেও অনেক সময় বিষাক্ত পদার্থ পানিতে ছেড়ে দেয়। বিষক্রিয়ায় এসব কচ্ছপের মৃত্যু হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত