কার পেশীতে কত শক্তি জানা যাবে আজ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:১৩ এএম

পাশাপাশি দুটো স্টেডিয়াম থাকায় এনসিএল টি-টোয়েন্টি খুব দ্রুত আয়োজনের জন্য সিলেটকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। স্বাগতিক সিলেটও ছিল ৮ দলের আসরে। কিন্তু বাদ পড়ে যায় চার দিনের প্রতিযোগিতার শিরোপাজয়ী সিলেট। ফাইনালে উঠেছে ঢাকা মেট্রো ও রংপুর। আজ পক্ষকালব্যাপী সেই টুর্নামেন্টের ফাইনাল। যারাই জিতবে সিলেট থেকে শিরোপা নিয়ে যাবে তারা। চার ছক্কার উত্তেজনার রেশ দুদলের শিবিরেই। তবে চাপ নয়, নির্ভার থেকেই ফাইনালে নামতে চান দুই অধিনায়ক।

ঢাকা মেট্রোর অধিনায়ক নাইম শেখ পুরো টুর্নামেন্টেই ব্যাট হাতে ঝলসে উঠেছেন। ৯ ইনিংসে ৩৫.১১ গড়ে করেছেন ৩১৬ রান। স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৭৯। হাফ সেঞ্চুরি তিনটি। ফাইনালেও রান করে দলকে শিরোপা উপহার দিতে চান মেট্রোর এই ওপেনার। তার মতে, চাপ এড়িয়ে নির্ভার থেকে খেলাই সাফল্যের চাবিকাঠি।

নাইম বলেন, ‘প্রথম থেকেই দলকে বলেছি, আমরা এক ম্যাচ এক ম্যাচ করে এগোব। ড্রেসিংরুম শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। মাঠে উপভোগ করার এবং বোলারদের সঠিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি।’

মেট্রোর শক্তি শুধু নাইমের পারফরম্যান্সেই সীমাবদ্ধ নয়। ইমরান উজ্জামান (২২৪ রান), শামসুর রহমান শুভ (১৮২ রান) ধারাবাহিকভাবে ব্যাট হাতে অবদান রেখেছেন। বল হাতে রাকিবুল হাসান (১৪ উইকেট), আবু হায়দার রনি (১২ উইকেট) এবং আলিস আল ইসলাম (১২ উইকেট) করেছেন দুর্দান্ত পারফর্ম।

নাইম আরও বলেন, ‘আমার দলে ৬-৭ জন ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটার আছেন। টি-টোয়েন্টিতে বড় বা ছোট দল বলে কিছু নেই। যারা মাঠে ভালো করবে, ফল তাদের পক্ষেই যাবে।’

অন্যদিকে, রংপুর বিভাগের বড় তারকা না থাকলেও দলের হয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আকবর আলী। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়েও দেখিয়েছেন দক্ষতা। টুর্নামেন্টের একমাত্র উইকেটকিপার হিসেবে ১০টি ডিসমিশাল করেছেন আকবর। রংপুরের সাফল্যে অবদান রেখেছেন আরও কয়েকজন। আলাউদ্দিন বাবু দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজনে ভূমিকা রেখেছেন। ওপেনার চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানও অলরাউন্ডার হিসেবে নজর কেড়েছেন। সেই সঙ্গে তানবির হায়দার ও নাঈম ইসলাম অভিজ্ঞতায় ভর করে দলে ভারসাম্য এনেছেন।

বড় মঞ্চের ফাইনালের স্নায়ুচাপ কেমন হয় সেটা রংপুর অধিনায়কের ভালোই জানা। কারণ তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ প্রথমবার জিতেছিল কোনো বিশ্বকাপ। যুবাদের হলেও সিনিয়র হয়ে সেই চাপ কীভাবে সামলাতে হয় সেটা যেন তারই পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাপ নিচ্ছি না। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাই। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সব বিভাগেই সেরাটা দিয়ে ফাইনালটা উপভোগ করতে চাই। আমাদের দলে দারুণ সব ক্রিকেটার আছেন। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশ্রণ আছে। কোয়ালিফায়ারে যেভাবে খেলেছিলাম সেভাবেই খেলতে চাই।’

দুই দলই দারুণ ছন্দে রয়েছে। গ্রুপ পর্বে মেট্রোর জয়রথ থামাতে পারেনি কেউ। তবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে আকবরের নেতৃত্বে ঢাকা মেট্রোকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় রংপুর। সেই হারের বদলা নিতে ফাইনালে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নাইমের দল।

টুর্নামেন্ট জুড়ে দুই দলই দাপুটে ক্রিকেট খেলেছে। তবে ফাইনালের মঞ্চে স্নায়ুচাপ সামলে যে দল ভালো খেলবে, হাসি তারাই হাসবে। প্রশ্ন একটাই- শেষ হাসি কে হাসবে? মেট্রো না রংপুর? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেটপ্রেমী জাতি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত