হারিয়ে যাওয়া ২১ খাল পুনরুদ্ধারের ঘোষণা মেয়র শাহাদাতের

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:০২ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ২১টি খাল পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, এক সময় চট্টগ্রামে ৫৭টি খাল থাকলেও এই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩৬ টিতে। হারিয়ে যাওয়া খালগুরো চিহ্নিত করে খনন কর্মসূচি শুরু করতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এটি একটি স্থায়ী সমাধান হয়ে উঠবে।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) নগরীর আকবরশাহ এলাকায় কালিরছড়া খাল পরিদর্শনকালে এ ঘোষণা দেন মেয়র। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পাহাড় কাটার কারণে এই খালের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। মেয়র বলেন, এখানে পাহাড় যারা কেটেছে তারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পোষ্য ছিল। এক-একজন কাউন্সিলর ছিল  ভূমিদস্যু, এক-একজন ডাকাতের সর্দার ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার আইনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

পাহাড়কাটার পেছনে অনির্বাচিত শক্তি কাজ করেছে দাবি করে মেয়র বলেন, রাষ্ট্র এ সমস্যার জন্য দায়ী। ভোটের অধিকার হরণ করে অপরাধীদের কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই অপরাধীদের মাধ্যমে দখল, লুটপাট ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে শহরটি। গত ১৬ বছর ধরে চলা এই অব্যবস্থাপনার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবেনা যদি আমরা তাদের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে ব্যর্থ হই।

শাহাদাত বলেন, আমাদের লক্ষ্য খালগুলো পুনরুদ্ধার করা। ইতিমধ্যে আমরা কালিরছড়া খালের কিছু অংশ দখলমুক্ত করেছি এবং আরো উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে। পতেঙ্গার গুপ্ত খাল, বাকলিয়ার বীর্জা খাল এবং কৃষি খাল পুনরুদ্ধারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিলুপ্ত হওয়া খালগুলো চিহ্নিত করে খনন কর্মসূচি শুরু করতে হবে।

খালখেকোদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, আমরা দৃঢ় সংকল্প করেছি যে, দখলদারদের আইনের আওতায় এনে খালগুলোকে পুনরুদ্ধার করব। যে ভূমিদস্যুরা দখল করে রেখেছে এবং অন্যায়ের মাধ্যমে দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সন্ত্রাসীদের বাধা উপেক্ষা করে উচ্ছেদ চালানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কালির ছড়া খাল উদ্ধারের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে যারা ঘর করেছেন তাদের উচ্ছেদে কাজ চলবে। যতই বাধা আসুক, বাধা উপেক্ষা করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত