ত্রিপুরাপাড়ায় ১৭ ঘরে দুর্বৃত্তের আগুন

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৪ এএম

বান্দরবানের লামা উপজেলায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের একটি পাড়ায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ১৭টি বসতঘর পুড়ে গেছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বেতছড়া ত্রিপুরাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

পাড়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বেতছড়া ত্রিপুরাপাড়ার বাসিন্দারা বড়দিনের উৎসব পালন করতে পাশের এলাকায় অবস্থান করছিলেন। মধ্যরাতে হঠাৎ পাড়ার বাড়িঘরে আগুন দেখতে পান। সেখানে গিয়ে দেখেন পুরো পাড়া পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা ভস্মীভূত হয়ে যাওয়া পাড়ায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

পাড়ার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন-চার বছর আগে একদল লোক এসে দাবি করে পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের স্ত্রীর নামে ওই পাড়ার জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে। তারা পাড়ার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে সেখানে একটি বাগান করে। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই পাড়ার বাসিন্দারা আবার সেখানে এসে ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে দখলদাররা পাড়ার বাসিন্দাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বড়দিন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পাশের টংগ্যাঝিরিপাড়ায় অনুষ্ঠান চলছিল। বেতছড়াপাড়ার বাসিন্দারা সে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তখন আগুনে বেতছড়াপাড়ার ১৯টি ঘরের মধ্যে ১৭টিই পুড়ে যায়। পাড়ার সব ঘরবাড়ি বাঁশ ও শনের তৈরি। টংগ্যাঝিরি থেকে বেতছড়াপাড়ায় আসতে আধা ঘণ্টার মতো লাগে। আগুন লাগার বিষয়টি জেনে সবাই এসে দেখে, ১৭টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে সবার ঘরের জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। একটি পক্ষ এ আগুন দিয়েছে।’

বেতছড়াপাড়ার বাসিন্দা এসকেন্দার ত্রিপুরা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাড়ার জায়গাটিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকজন ভূমিদস্যু আমাদের পাড়া থেকে উচ্ছেদ করে জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছে। বড়দিনের উৎসবে যাওয়ার সুযোগে এসব ভূমিদস্যু পাড়ায় আগুন দিয়েছে।’

পাড়ার কারবারি চন্দ্রমণি ত্রিপুরা বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত থেকে বড়দিনের উৎসব শুরু হয়েছে। এটি আমাদের বড় অনুষ্ঠান। আমাদের পাড়ায় গির্জা, পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় সবাই পাশের টংগ্যাঝিরিপাড়ায় উৎসবে যাই। রাত ১টার দিকে শুনতে পাই পাড়ায় আগুন লেগেছে। এসে দেখি পাড়ার ১৯টি ঘরের মধ্যে ১৭টিই পুড়ে গেছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।’

এ বিষয়ে লামা থানার ওসি এনামূল হক ভূঞা বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তরা কিছু অভিযোগ দিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে।’

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবারকে ৩৪টি কম্বল এবং শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও তাদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জায়গা নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিত আকারে অভিযোগ দিতে বলেছি পাড়াবাসীকে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত