সচিবালয়ে ১০ ঘণ্টায় পুড়ে ছাই হাজারো নথি

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৩৯ এএম

মধ্যরাতে সচিবালয়ে লাগা আগুনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব নথিপত্র। সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে বুধবার রাত ১টা ৫০ মিনিটে লাগা এ আগুন ১০ ঘণ্টা পর নেভে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের বিরতিহীন চেষ্টায়। আগুনে ভস্ম হয়ে গেছে ছয়টি মন্ত্রণালয়ের সব কক্ষ। জানা যায়নি আগুনের উৎস, নিরূপণ হয়নি ক্ষয়ক্ষতি। আগুনের ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আগুন নেভাতে ১০ ঘণ্টা সময় লাগার কারণ নিয়েও। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আগুন নেভাতে কোনটা কত সময় লাগবে, সেটা তো আমরা এভাবে বলতে পারব না। সেটা আগুনের ওপর নির্ভর করে। ফায়ার ফাইটারের গাড়ি যাওয়ার ওপরও অনেকটা নির্ভর করে। পানি সরবরাহের ওপরও নির্ভর করে। এ ছাড়া বিভিন্ন রকম প্রতিবন্ধকতার ওপরও নির্ভর করে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। ১৯টা ফায়ার ইউনিট একসঙ্গে কাজ করে কন্ট্রোলের ভেতরে এনেছে।’

আগুনের সূত্রপাতের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা হাই-পাওয়ার তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। এ তদন্ত কমিটি খুব দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দিলে আপনারা জানতে পারবেন কেন এ আগুনের সূত্রপাত।’ ৭ নম্বর ভবনে ছিল অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, শ্রম ও কর্মসংস্থান, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, সড়ক পরিবহন সেতু বিভাগ। এ ভবনের তিন জায়গায় একই সময়ে আলদা আগুনের কুন্ডলী দেখা গেছে। আগুনের এমন আলাদা আলাদা কু-লী জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণের মনে। বিষয়টি নাশকতামূলক আগুন বলে সন্দেহ করছেন অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (অপারেশনস) মেজর (অব.) একেএম শাকিল নেওয়াজ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনভাবে আগুন লেগে থাকে। একটা হলো প্রাকৃতিকভাবে। যেমন বজ্রপাত। গতকাল রাতে তো এমন কিছু হয়নি। তারপর আছে দুর্ঘটনাজনিত আগুন। এতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, চালু রাখা ল্যাপটপ বা এ ধরনের নাজুক ইলেকট্রনিকস সামগ্রী বিস্ফোরণের মাধ্যমে। এটা ঘরের চুলা, স্টোভ থেকেও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গতকাল সচিবালয়ে ছুটি ছিল। সেখানে কেউ যায়নি, কাজ করেনি। হিসাব অনুযায়ী এসব কেউ ব্যবহার করেনি। তাই এভাবেও আগুন লাগার শঙ্কা নেই। কারণ, এরকম ছুটির দিনে এসব স্পর্শকাতর স্থাপনায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। বাকি রইল ধরিয়ে (কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে) দেওয়া আগুন। এই ধরিয়ে দেওয়া আগুনের কিছু ক্লু হলো রাজনৈতিক বিভেদ, নথি গায়েব বা আমার ভাই-তোমার ভাই (অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীগত প্রভাব) থাকা। কোনো দাবি-দাওয়া থাকা। এগুলোর জন্যও হতে পারে। সচিবালয়ে তো এগুলো ছিল নাকি? আগুন লেগেছে একটি নির্দিষ্ট ভবনে। সেখানে খুবই গুরত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কাজ হতো। বিশাল একটা ভবনের মধ্যে এই একটা অংশেই কেন আগুন লাগল? সেটাও আবার গভীর রাতে।’ আগুনের কুন্ডলী কেন আলদাভাবে তিন জায়গায় দেখা গেল? এ পর্যায়ে এসে এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘কেন তিন জায়গায় আগুন দেখা গেল? এক জায়গায় নয় কেন? আগুন তো একবারে বাড়ে না। কথা হলো আগুন যখন অল্প ছিল তখন কেন দায়িত্বরতরা দ্রুত ব্যবস্থা নিল না? কেন ফায়ার পরে গেল? আগুন নেভাতে কেন ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। সচিবালয়ের মতো একটা স্পর্শকাতর জায়গায় পুলিশ, আনসার কী করেছে? রাত ১টায় ওখানে আগুন লাগবে কেন? ওটা তো কোনো আবাসিক এলাকা নয়। যে লোকজন বাস করে তাই আগুন লাগবে। আবার সচিবালয়ে একটা পক্ষের, ৪০ ঘণ্টার আলটিমেটাম ছিল। আগুন লাগার আগে-পরের এসব ঘটনা প্রবাহ ইঙ্গিত করে এটা ধরিয়ে দেওয়া আগুন। তবে এটা তদন্ত সাপেক্ষে বের করা হবে।’ এসব প্রশ্নের উত্তরে অগ্নিনির্বাপণের দায়িত্ব পালন করা ফায়ার সার্ভিসের একাধিক সদস্য বলেন, আগুন নেভাতে গিয়ে তাদের পদে পদে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। সচিবালয়ের ফটক দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে ঢোকাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের দুটি টার্নটেবল লেডার (টিটিএল) ভেতরে ঢুকতে পেরেছে। যদি আরও বেশি টিটিএল ঢুকতে পারত, তাহলে আরও আগে আগুন নেভানো সম্ভব হতো। সচিবালয়ে ঢোকার মোট ফটক পাঁচটি। তবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার ফটক আছে মাত্র দুটি। এই দুই ফটক দিয়েও ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি ঢুকতে সমস্যা হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

রাত ১টা ৫০ মিনিটে লাগা আগুন একেবারে নিভে যায় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে। আগুনের ঘটনার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি গতকাল পর্যন্ত। শুরুতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা কিছুক্ষণ পরই বের হয়ে আসেন। বের হয়ে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, ‘ভেতরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।’ তবে ঘটনার রাতে সচিবালয় ক্যান্টিনের এক স্টাফের সঙ্গে কথা হয়। নাসির উদ্দিন নামে এই ক্যান্টিন স্টাফ গতকাল দুপুরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি রাতে ঘুমিয়েছিলাম ক্যান্টিনের ভেতরে। রাত ২টার দিকে হঠাৎ শুনি আগুন-আগুন বলে সবাই চিৎকার করছে। আমরা ক্যান্টিনের সব স্টাফ ক্যান্টিনের বাইরে বের হই। পরে জানতে পারলাম ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিস আসে, পুলিশ ছিল। আমি দেখেছি, ছয়তলায় আগুন লাগছে, ভবনের তিনতলা পর্যন্ত টেবিল-চেয়ার পুড়ে গেছে। ওই ভবনের এখন আগুন নেই, তবে প্রচন্ড ধোঁয়া আছে। যা বুঝেছি, আগুনে ভবনের ওপরে-নিচে পুড়ে গেছে। আগুন কীভাবে লেগেছে তা আমরা জানি না।’ রাতে আপনাদের ক্যান্টিনের গ্যাসের চুলা চলে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, কারণ অফিস বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের ক্যান্টিনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। রাতে আমরা ক্যান্টিনের গ্যাসের চুলা বন্ধ করে রাখি।’ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘ছয়তলায় আগুন লেগে তা ওপরে ছড়িয়েছে। কী হয়েছে তা আমরা দেখব। পুরোটা সার্চ করার পর কিছু পাওয়া যায় কি না আমরা জানাব।’ আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ‘কী কারণে আগুনের সূত্রপাত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। এর মধ্যে ১০টি ইউনিট সরাসরি কাজ করেছে। ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো ভেতরে ঢোকানো যাচ্ছিল না। তাই গেট ভেঙে দুটি গাড়ি ঢোকানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসে ২১১ জন কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করেছে।’

তদন্তে তিন কমিটি : অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও উৎস খুঁজে বের করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে এদিন একটি জরুরি বৈঠকে উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর মনজুর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রাসেল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইয়াছির আরাফাত খান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে বলেও আদেশে জানানো হয়েছে।

তদন্ত কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে এ কমিটি সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ উদঘাটন; অগ্নিদুর্ঘটনার পেছনে কারও ব্যক্তিগত বা পেশাগত দায়দায়িত্ব আছে কি না, তা উদঘাটন এবং এ জাতীয় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ করবে। এর আগে এ ঘটনায় আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনা সরকার খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এখানে আমাদের নিরাপত্তার বিষয় জড়িত এবং রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকে। এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ, উৎস এগুলো খুঁজে বের করে আগামী তিন দিনের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন সরকারকে দেবে। প্রাথমিক প্রতিবেদনের বিষয়টি গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো না গেলেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন গণমাধ্যমকে পুরোটাই জানানো হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের সমর্থক ও আমলাদের ছাড় দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তা দোষী সাব্যস্ত হলে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনের গতি ঠিক রেখে ঢেলে সাজানোর কাজও চলছে।’

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আজকে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটার কারণ জানা গেলে সে অনুযায়ী অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ঘটনা আর যাতে না ঘটে, আমাদের সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদের (উপদেষ্টা) কার্যালয়ে বসার সুযোগ নেই। পুরো কার্যালয় পুড়ে গেছে। নথিগুলো পুড়ে গেছে। এখানে নিরাপত্তার ব্যর্থতা ছিল কি না? অন্য কোনো বিষয় ছিল কি না? কী কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এগুলো সবই তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। আমাদের মতামতগুলো আমরা তদন্ত কমিটিকে জানাব।’

এ সময় যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র পুড়ে গেছে। সেখানে অনেক অর্থ লোপাটের নথিপত্র ও তদন্তের ফাইলপত্র ছিল। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথি অনলাইনে থাকায়, সেগুলো পাওয়া যাবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নথি যেসব পুড়ে গেছে, সেগুলোর কতখানি পাওয়া যাবে, সেগুলো তদন্ত করলে জানা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জলের পিরোজপুরের একটি প্রকল্পে অর্থ লোপাটের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছিল। সেই নথিগুলো পুড়ে গেছে। তবে পিরোজপুর থেকে আবারও সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

এ সময় পুড়ে যাওয়া মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে সচিবালয়ের ভেতরে জায়গা খোঁজা হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

এই অগ্নিকাণ্ডে পানির পাইপ টানতে গিয়ে সচিবালয়ের সামনের সড়কে মিনি ট্রাকে চাপা পড়ে প্রাণ হারান ফায়ার ফাইটার শোয়ানুর জামান নয়ন। আগুন নেভাতে গিয়ে হাতে আঘাত পান সৈয়দ মনিরুল ইসলাম নামে আরও একজন ফায়ার ফাইটার। যিনি বারিধারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ। এ ছাড়া গত রাতেই ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার খবর জানা গেছে। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এদিকে গতকাল রাত ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর ইস্কাটন এলাকার সচিব নিবাসেও আগুনের ঘটনা ঘটে। সচিব নিবাসের ২০-তলা ভবনের চারতলার এক বাসার রান্নাঘরে আগুন লাগার খবর নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন। তিনি বলেন, সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়।

সন্দেহ থাকায় কুকুরের মরদেহ ফরেনসিকে : সচিবালয়ে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবন পরিদর্শন করেছে পুলিশের ফরেনসিক বিভাগ। ৭ নম্বর ভবনের আটতলা থেকে আগুনে পুড়ে যাওয়া মৃত একটি কুকুর পাওয়া গেছে। কুকুরটি আটতলায় কীভাবে উঠল, শরীরে বিষাক্ত কিছু আছে কি না, এমন সন্দেহে মরদেহ পাঠানো হয়েছে ফরেনসিক বিভাগে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে প্রবেশ করে পুলিশের ফরেনসিক বিভাগের প্রতিনিধিদল। পরিদর্শনকালে সচিবালয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কুকুরটির শরীরে বিষাক্ত কিছু আছে কি না, তার রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা চলছে। কুকুরটি অষ্টমতলায় কীভাবে উঠল, তা নিয়ে আমরা অনুসন্ধান করছি। ভবনে থাকা সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারণ কুকুরটি কখন ওপরে উঠল, তা বের করা খুবই জরুরি। কোনো দুর্বৃত্ত কুকুরটিকে ব্যবহার করেছে কি না, তাও উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত