পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন

চীনের সঙ্গে কাজ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৯ এএম

দেশের বিভিন্ন বিষয়ে চীনকে সঙ্গে নিয়ে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের এই যুগে শুধু কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই নয়, বরং বন্ধু হিসেবে চীনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।’ গতকাল শুক্রবার ঢাকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ‘চীন-দক্ষিণ এশিয়া সভ্যতা ও সংযোগ : ইতিহাস ও সমসাময়িক ইস্যু’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেছেন, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিক অনেক সুবিধা অর্জন করা যেতে পারে।

মিয়ানমারের স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা ও রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের জন্য বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে নির্বিঘœ সংযোগ প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে সবচেয়ে কার্যকর রুটটি করা যেতে পারে।’

তৌহিদ হোসেন বলেন, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রয়াসে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই উদ্যোগটি অভিন্ন সমৃদ্ধির চেতনা প্রতিফলিত করে। এই উদ্যোগের অধীনে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য করিডর ও জনগণের সঙ্গে জনগণের বিনিময় কল্যাণের লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সংহতির আকাক্সক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

উপদেষ্টা বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্ব বাড়ানোর তাৎপর্য পুনর্ব্যক্ত করেন, যা এ বছর একটি ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে’ পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই নতুন অংশীদারত্বটি বিশ্বাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে।’

তৌহিদ হোসেন সমসাময়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ যেমন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক নানা বৈষম্য সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল প্রতিবেশী হিসেবে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে অবশ্যই এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত