বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে এ বছর বৈঠক হচ্ছে না। গতকাল শুক্রবার হিন্দুস্তান টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরে বিজিবি ও বিএসএফ প্রধানদের বৈঠকটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিষয়টির সঙ্গে অবহিত বিএসএফের এক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে এই তথ্য জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত নভেম্বর মাসে বৈঠকটি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আগস্ট মাসে সরকার পরিবর্তনের পর ভারতের সংবাদমাধ্যম পিটিআই জানিয়েছিল, বাংলাদেশের পরিকল্পনায় পরিবর্তনের কারণে বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরবর্তী সময়ে আলোচনার জন্য দ্রুত তারিখ ঠিক করতে কাজ চলছে। হিন্দুস্তান টাইমসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী বিএসএফের কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকের নতুন তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তাই এই বছরে আর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না। গত মাসে বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার পর ডিসেম্বরে পারস্পরিক সমঝোতার চেষ্টা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। বলা যায়, নতুন তারিখ নির্ধারণে ঢাকার ধীরগতি জানান দিচ্ছে, বিএসএফের অনুরোধে সায় দিচ্ছে না বাংলাদেশ।
বিএসএফ কর্মকর্তার দাবি, সীমান্তের নির্দিষ্ট পয়েন্টে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে সমস্যা হয়েছে, তবে এটি সামান্য বিষয়। যেসব বিষয়ের সমাধান সম্ভব হয়নি, সেগুলো দুই বাহিনীর বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। সীমান্তে দুই বাহিনীর মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। তাই আমরা মনে করি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক কিছুটা পিছিয়ে গেলেও তা কোনো সমস্যা নয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, বিএসএফকে মোটরবোট চালাতে সাহায্য করা কয়েকজন অসামরিক ব্যক্তি ভুলবশত বাংলাদেশ ভূখ-ে ঢুকে পড়েছিলেন। সেই ঘটনায় ৫ ভারতীয়কে সশস্ত্র অপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় বাংলাদেশে। এই নিয়ে দুই পক্ষের অচলাবস্থা কাটেনি। এদিকে সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্টে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণেও আপত্তি জানান বিজিবি সদস্যরা। এছাড়া সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বরাবরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চে ঢাকায় দুই বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রতিবেশী দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদকবিরোধী বিভাগ, কাস্টমস ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় সংস্থার কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
