গাজীপুরে রিজওয়ানা

৫ আগস্টের পর গাজীপুরে ১৬ একর বনভূমি উদ্ধার

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৭ এএম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘৫ আগস্টের পরে গাজীপুরে অবৈধভাবে দখল হওয়া ৯০ একর বনভূমির মধ্যে ১৬ একর উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি বনভূমি উদ্ধারেও অভিযান চালানো হবে।’

গতকাল শনিবার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বন ও পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বনভূমি ও পরিবেশ রক্ষার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বনভূমি দখলদাররা যত প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান হোক না কেন তাদের উচ্ছেদ করা হবে।

তিনি বলেন, বন দখলকারীদের প্রতিরোধ করতে কীভাবে কাজ করতে হয়, তা আমরা খুব ভালোভাবেই জানি। আগামী তিন মাসের মধ্যে দখলকারীদের উচ্ছেদ করা হবে। সেজন্য নেওয়া হয়েছে ব্যাপক পরিকল্পনা। জেলা প্রশাসকদের বনের সীমানা নির্ধারণের কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেটি শেষ হলেই অভিযানও শুরু হবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বৃক্ষনিধন ও শিল্পকারখানার দূষণ বন্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে সব দিক পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নবায়নের সময় জনগণের মতামত নিতে হবে।

স্থানীয় পরিবেশ সমস্যা, বনভূমি দখল ও দূষণ নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দেন। উপদেষ্টা এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীনের সভাপতিত্বে সরকারি, বেসরকারি ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গাজীপুরের লবনদহ নদীর দখল ও দূষণ রোধে ব্যবস্থা নিতে গাজীপুরে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘নদী বাঁচাতে প্রয়োজনে দু-একটি শিল্পকারখানা বন্ধ করে দেব।’ সকালে গাজীপুর নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নদী বাঁচতে যুব সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এ নদীর দখল উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহযোগিতা করবে। আর নদীদূষণের বিষয়ে তালিকা ধরে ধরে দূষণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নদী যারা দূষণ করছে, তাদের অনলাইন মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখা হবে। নিয়মিত পানি পরীক্ষা করা হবে।’

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘নদীগুলোকে শিল্পবর্জ্যরে বাঘারে পরিণত করার অধিকার কোনো শিল্পপতিকে দেশের কোনো আইন দেয়নি। বিশ্বের কোনো আইনে, বিশ্বের কোথাও কোনো শিল্পপতিকে তার ব্যবসায়িক লাভের জন্য বর্জ্য পরিশোধন না করে নদীতে ফেলার কোনো লাইসেন্স দেয়নি। আমি অনেক ট্যানারি বানাতে পারব। আমি পয়ঃবর্জ্যরে জন্য বিকল্প করতে পারব। কিন্তু একটা নদী সৃষ্টি করতে পারব না। যে নদীটা আমরা সৃষ্টি করতে পারব না, সেটা ধ্বংস করতে পারব না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত