‘১০ বছরের মিথ্যা সাজার পরও দেশ থেকে পালাননি খালেদা জিয়া’

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:০০ পিএম

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকার আদালতকে ব্যবহার করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ১০ বছর মিথ্যা সাজা দিয়েছিল। সেই সাজা খেটেও তিনি দেশে ছিলেন। দেশকে ভালবাসেন বলেই তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যাননি। অথচ শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার রোশানলে পড়ে তার নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারত গেছেন।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩ টায় মহিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মহিপুর কো-অপ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এবিএম মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, শুধুমাত্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ৬০ হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে গত ১৫ বছরে কয়েক লাখ কোটি টাকা লুট করে নিয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নের নাম করে বিদেশ থেকে যে ঋণ নিয়েছেন, তা পরিশোধ করতে হবে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে। আর এই গ্লানি বহন করতে এ দেশের ১৮ কোটি মানুষকে। 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে যতবার ভোট সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক নির্বাচন হয়েছে ততবারই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জয়লাভ করেছে। শেখ হাসিনা অবৈধ সরকার ২০১৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনে বিনা ভোটে জয়লাভ করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচন আমলা এবং মামুদের নিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে। সেসব নির্বাচিত নেতারা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে পারেনি। 

মোশাররফ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। তারা বলছে বাংলাদেশে হাজার হাজার হিন্দু নির্যাতন করা হচ্ছে। বাড়িঘর ছাড়া করা হচ্ছে। অথচ আজ বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই জনসভায় অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক বিএনপিতে যোগ দিয়েছে। 

মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি মো. জলিল হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শাহজাহান পারভেজের সঞ্চালনায় এ সময় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হাফিজুর রহমান চুন্নু।

 এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফরুজ্জামান খোকন, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লি, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক, রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজী, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীনাননু মুন্সি,মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. ফজলু গাজী প্রমুখ। 

এবিএম মোশাররফ হোসেন এর সম্বধনা ঘিরে দিনভর মহিপুরে ছিল উৎসব আমেজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত