খুলনায় ৪ পুলিশ সদস্যের নামে আদালতে মামলা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩২ এএম

খুলনায় চিকিৎসা প্রদানে বাধা ও নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যের নামে মামলা হয়েছে। গত সোমবার খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আদালতে এ মামলা দায়ের করেন নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা আসমা বেগম। বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়ে আগামী ২৪ মার্চ রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রিজন সেলের এসআই বিভূতিভূষণ ভৌমিক, কনস্টেবল হিরো আহমেদ, কনস্টেবল সাহাব্বার (উভয় এসএএফ শাখা কেএমপি) ও কনস্টেবল সজল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর ভাগ্নি জামাই হাসানুজ্জামান আকাশ গত ১৩ ডিসেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর মিয়াপাড়া বন্ধনের মোড়ে সন্ত্রাসীর গুলিতে আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন দুপুরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কোনো মামলা না থাকার পরও হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা এসআই বিভূতিভূষণ আহত আকাশকে প্রিজন সেলে হস্তান্তর করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ ডিসেম্বর অস্ত্রোপচারের জন্য সকাল ১০টার দিকে তাকে জরুরি অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, রোগীর অবস্থা খুবই সংকটপূর্ণ। জরুরিভিত্তিতে তাকে ঢাকায় নিতে হবে। তখন বাদী আসমা বেগম এসআই বিভূতিভূষণকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনাদের বারবার বলা সত্ত্বেও আকাশকে প্রিজন সেলে আটকে রেখে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে গেছেন, কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে এসআই বিভূভিভূষণ ও কনস্টেবলরা বাদী আসমাকে উল্লেখ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ধমক দিতে থাকেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পরিবারের অন্য সদস্যরা পুলিশ সদস্যদের উত্তেজিত হতে নিষেধ করলে পুলিশ সদস্য হিরো আহমেদ এবং সাহাব্বার তাদের গলা ধাক্কা দিয়ে অপারেশন থিয়েটারের সামনে থেকে সরিয়ে দেন। এ অবস্থায় আসমা বেগম এসআই বিভূতিভূষণকে বলেন, আমার জামাইকে কি মেরে  ফেলবেন। না পারলে আমাদের কাছে দেন আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। এ কথা  শোনামাত্র এসআই উত্তেজিত হয়ে তাকে চড় মারতে থাকেন এবং পুলিশ সদস্য সজল তার শ্লীলতাহানি করে। এ ঘটনার পর বাদী চিৎকার করলে তাকে বেতের লাঠি দিয়ে আঘাত করলে মাথার ডান পাশ কেটে গেলে তার মাথায় ৩টি সেলাই দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট বি এম ফারুখ বলেন, খুলনা  মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১ এর বিচারক মো. ফরিদুজ্জামান মামলাটি গ্রহণ করেছেন। যার সিআর নম্বর ১২৯১/২৪। তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য খুলনা পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৪ মার্চ তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত