জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ১৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। এ ছাড়া বছর জুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ১৮০ জন। আহত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৫১ জন। বিদায়ী বছরে ৩০৮টি হামলার ঘটনায় ৭২৬ জন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন ১০ জন সাংবাদিক। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটি। এইচআরএসএস’র নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ৫৩ বছরে ২০২৪ সালে বিশেষত আগস্ট মাস পর্যন্ত মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভীতিকর ও চরম উদ্বেগজনক।’ তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও বছরজুড়ে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতির শুধু অবনতিই নয় বরং চরম উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছিল।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীর পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল ও জাতীয় দৈনিকগুলোর সূত্রের বরাতে ১ হাজার ১৩ জন নিহতের তথ্য উল্লেখ করা হলেও প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ জন হবে। আন্দোলনে কমপক্ষে ১৩৬ জন শিশু, ১৩ জন মেয়েশিশু ও নারী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ জুলাই থেকে ২০ জুলাই ও ৪ থেকে ৭ আগস্ট ৮৬৫ জন নিহত হয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা ৮৫ ভাগের বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ২৭০ জন সাংবাদিক আহত, হুমকি, গ্রেপ্তার ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন ৬ জন সাংবাদিক। বিদায়ী বছরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নির্বাচনী সহিংসতার ৭৮১টি ঘটনায় ৪৩ জন নিহত ও ২ হাজার ৫৩৮ জন আহত হয়েছেন।
এইচআরএসএস’র তথ্য মতে, ২০২৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা হেফাজতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের কমপক্ষে ২৫টি ঘটনার শিকার হয়েছেন ২৫ জন।
