চটকদার বিজ্ঞাপনে হাতিয়ে নেয় টাকা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৯ এএম

রাজশাহী শহর ও উপজেলা পর্যায় সবখানেই ব্যাঙের ছাতার মতো যেখানে-সেখানে গজিয়ে উঠেছে বেসরকারি স্কুল। কিন্ডারগার্টেন হিসেবে পরিচিত এসব স্কুলের প্রায় সবগুলোই পাঠদানের অনুমোদনহীন। অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠানগুলো চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। প্রতি বছরের শেষের দিকে চটকদার সব বিজ্ঞাপন দিয়ে ভর্তি করাচ্ছে শিক্ষার্থী। হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। অজ্ঞাত কারণে, এসব স্কুলের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। যদিও জেলা প্রশাসন দাবি করেছে, তারা তালিকা করছে। তার ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদন না থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পার্শ্ববর্তী কোনো স্কুলের সঙ্গে যৌথভাবে তারা স্কুল পরিচালনা করেন। নিবন্ধন পাওয়া স্কুলের শিক্ষার্থী তালিকায় অনুমোদনহীন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নাম দেখান। সরকারি বই পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই তারাও বই পেয়ে থাকেন।

রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা, ২০২৩ এর বিধি ৪ এর উপ-বিধি (৫) এর অধীন প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য (১ এক বছর মেয়াদি) ‘পাঠদান অনুমতি’ ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত রয়েছে মাত্র ২৬টি প্রতিষ্ঠানের। যদিও রাজশাহী কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় প্রাথমিকের বেসরকারি স্কুল আছে প্রায় ৩০০টি। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তথ্য মতে, মাধ্যমিক পর্যায়ে রাজশাহী জেলার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাঠদানের অনুমতি নিয়েছে মাত্র ৪২টি। তবে রাজশাহী জেলাতে পাঠদান করছে প্রায় আড়াইশ স্কুল। রাজশাহী নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে রয়েছে শিমুল মেমোরিয়াল নর্থ পয়েন্ট স্কুল। সেই স্কুলে পাঠদানের অনুমতির যথাযথ কাগজ নেই। তবে চলছে ভর্তি। রাজশাহী শিমুল মেমোরিয়াল নর্থ পয়েন্ট স্কুলের চেয়ারম্যান এমএ মান্নান খাঁন অবশ্য দাবি করেছেন, তাদের অনুমোদন আছে। এ জন্যই তারা ভর্তি করাচ্ছেন। তার কাছে অনুমোদনের কাগজ দেখতে চাইলে কিছু কাগজ পাঠানও তিনি। তবে তার দেওয়া কাগজে দেখা যায় তার স্কুলের অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৫ সালে। এ বিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বিরাজ আহম্মেদ বলেন, এক বছরের জন্য আমরা আরও অনুমোদন নিয়েছি। আমাদের লটারির লিস্ট দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন না থাকলে আমরা কীভাবে ভর্তি নিচ্ছি? তবে, অনুমোদনের কাগজ পাঠানোর জন্য বললে তিনি বলেন, আপনি আসেন। সামনা সামনি আরও কাগজ দেখানো হবে। রাজশাহী জেলা প্রি-ক্যাডেট ও কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফিক আলম বলেন, রাজশাহীর কয়েকটা ছাড়া কোনো কিন্ডারগার্টেনের পাঠদানের অনুমতি নেই। আমরা যারা পুরনো প্রতিষ্ঠান আছি আমরা চাই এগুলো একটি নিয়মের মধ্যে আসুক। রফিক আলম আরও বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান চটকদারি বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এগুলো সঠিক নয়। আমরাও চাই পাঠদানের অনুমতি নিক। রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা সবার জন্য পাঠদানের অনুমতি প্রক্রিয়া সহজ করে দিয়েছি। তারা আমাদের শর্ত পূরণ করলেই এটি পেয়ে যাবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল আজিজ সরদার বলেন, মাধ্যমিকের পাঠদানের অনুমতি শিক্ষা বোর্ড থেকে নিতে হয়। কোনো স্কুল যদি সেটি না করে তাদের বই দেব না।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. অলীউল আলম বলেন, পাঠদানের অনুমতি ছাড়া যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত