অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২৯টি ব্যাংক হিসাবে ৬৬৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। এ ছাড়া নাটোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শহীদুল ইসলাম বকুলের বিরুদ্ধে ২ কোটি ২৭ টাকার বেশি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহার করে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পায় দুদক। দুদকের অনুসন্ধানকালে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে তার ১৫২ কোটি ৮৫ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৪ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৮ হাজার ২০৮ টাকার সম্পদ অর্জনের উৎস পাওয়া গেলেও অবশিষ্ট ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। তিনি এ পরিমাণ সম্পদ ঘুষ ও দুর্নীতির টাকায় অর্জন করে নিজ ভোগ দখলে রাখায় দুদক মামলাটি করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযোগ অনুসন্ধানকালে তার ২৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা জমা এবং ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা উত্তোলনসহ ৬৬৫ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ১৯০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। মামলা তদন্তকালে এসব অর্থ কোথায় পাওয়া গেছে, কোথায় পাঠানো হয়েছে এবং এই দুর্নীতির এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
সাবেক এমপি বকুলের মামলার এজাহারে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ২ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নাটোর-১ আসনের সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম বকুলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া আটটি ব্যাংক হিসাবে ১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৫৬ হাজার ২৭৪ টাকা জমা ও ১৪ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৭১৩ টাকা উত্তোলনসহ ২৯ কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার ৯৮৭ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়।
