সেই ‘পানামা ফারুক’ই তাহসানের শ্বশুর

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৫১ পিএম

নতুন বছরে বিয়ের খবর দিয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান। শনিবার সকাল থেকেই নেটিজেনরা এই নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন। এমনও লিখেছেন কেউ কেউ, ‘অবশেষে চাঁদের আলো খুঁজে পেয়েছেন তাহসান।’ কিন্তু চাঁদেরও কলঙ্ক থাকে সেটিই যেন প্রমাণ হয়ে গেল তাহসানের ক্ষেত্রে। 

তাহসানের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর তার স্ত্রী রোজা আহমেদের পরিচয় নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। নেটিজেনরা বলছেন, রোজার বাবা পানামা ফারুক যিনি বরিশালের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। সেই সময়ে বরিশাল নগরে গড়ে ওঠা ‘আট বাহিনীর’ একটির প্রধান ছিলেন ফারুক। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এলে এসব শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে পালিয়ে যান। ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফারুক ও তার বাহিনীর সদস্যরা দেশের বাইরে পলাতক ছিলেন।

১৯৯৬-২০০১ সালে তখনকার চিফ হুইপ বর্তমানে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর অনুসারী ফারুক ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতেন। বেপরোয়াভাবে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও চাঁদাবাজি করতেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নগরের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। সেই সময় ফারুক একবার বরিশাল প্রেসক্লাবে হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের মারধর করেন। একে-৪৭ নিয়ে একাধিকবার নগরে মহড়া দেন।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে পানামা ফারুক, মো. জসিমউদ্দিন, কুতুব রানা, মামা খোকন, আবুল বাসার, মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে চুন্নু, মোনায়েমসহ আট বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিল নগরবাসী। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এলে এসব সন্ত্রাসী ভারতে চলে যান। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তারাও দেশে ফেরত আসেন। ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর ফারুক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের নির্দেশে কিছুদিন কারাভোগের পর পরবর্তী সময়ে তিনি আবার জামিনে মুক্ত হন।

১৯৯৬ সালের আগে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফারুক। ওই বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি যুবলীগে যোগ দেন। বাজার রোড এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানামা ট্রেডার্সের মালিক ছিলেন তিনি। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর তার নামের পেছনে ওই ‘পানামা’ বসে যায়। নাম হয় ‘পানামা ফারুক’। ফারুকের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১০টি মামলা ছিল। তবে ফারুকের পরিবার সে সময় জানিয়েছিল, র‌্যাব তাকে গুলি করে হত্যা করে। তার বিরুদ্ধে আগে অভিযোগ থাকলেও তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন।

তাহসানের বিয়ের খবরে ১০ বছর পর আবারও আলোচনায় এলেন সেই পানামা ফারুক। শোনা যাচ্ছে, তার মেয়ে রোজাকেই বিয়ে করেছেন তাহসান। তাহসানের হবু স্ত্রী রোজা আহমেদ পেশায় মেকওভার আর্টিস্ট। পড়াশোনা করেছেন মার্কিন মুলুকে। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে কসমেটোলজির ওপর পড়াশোনা করে সেখানেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজের প্রতিষ্ঠান। শহরটির কুইন্সে আছে রোজা’স ব্রাইডাল মেকওভার। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এ পেশায় যুক্ত। বাংলাদেশে ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাইডাল মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন রোজা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত